আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতাদের আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। একাধিক নেতা একের বেশি আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন, যা নির্বাচনকে আরও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
বিএনপি ও জোটভুক্ত প্রার্থীরা
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসন—বগুড়া-৬ (সদর) ও ঢাকা-১৭ (গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাসানটেক)—থেকে নির্বাচন করছেন। ঢাকা-১৭ আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ডা. এসএম খালেদুজ্জামান এবং বগুড়া-৬ আসনে জামায়াতের মো. আবিদুর রহমান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কুমিল্লা-১ আসনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রার্থী হয়েছেন।
ঢাকা-৮ (মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও শাহজাহানপুর) আসন থেকে নির্বাচন করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ আসনে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জের আংশিক) আসনে প্রার্থী হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যেখানে জামায়াতের মো. শাহীনুর ইসলামকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নরসিংদী-২ (পলাশ) আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান নির্বাচন করছেন। এখানে জামায়াত এনসিপির প্রার্থী মো. গোলাম সারওয়ার (সারওয়ার তুষার)-এর জন্য আসনটি ছেড়ে দিয়েছে।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ, যেখানে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুক।
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন জামায়াত জোটের বিডিপির মুহা. নিজামুল হক নাঈম। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মো. মোসলেহ উদ্দিনও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
দিনাজপুর-৬ আসনে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ইকবাল হাসান টুকু এবং ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু নির্বাচন করছেন।
নোয়াখালী-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রার্থী হয়েছেন।
জোটের অন্যান্য আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে ভোলা-১ আসনে বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান।
নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কুমিল্লা-১১, মজিবুর রহমান রাজশাহী-১ এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুর-২ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান), যেখানে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি।
১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক এবং ফেনী-২ আসনে এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু নির্বাচন করছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে এবং সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কুমিল্লা-৪ আসনে দলটির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
অন্যান্য আলোচিত প্রার্থী
রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া।
ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ডা. তাসনিম জারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি।