আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশজুড়ে সংঘটিত শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য সামনে এসেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের সঙ্গে বরখাস্তকৃত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন তার সাবেক দেহরক্ষী ও সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার শুনানিকালে কড়া পুলিশি পাহারায় জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে এনে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, ইলিয়াস আলী গুমের সময় জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস ২০১২ সালের শুরুর দিকের একটি ভয়াবহ অভিযানের বিবরণ দেন। তিনি জানান, জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে তিনটি মাইক্রোবাসে করে ১১ জনকে পোস্তগোলা আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে তাদের একটি বোটে তোলা হয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস ২০১২ সালের শুরুর দিকের একটি ভয়াবহ অভিযানের বিবরণ দেন। তিনি জানান, জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে তিনটি মাইক্রোবাসে করে ১১ জনকে পোস্তগোলা আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে তাদের একটি বোটে তোলা হয়।
বোটটি নদীর মাঝখানে নিয়ে যাওয়ার পর জিয়াউল আহসানের নির্দেশে ওই ১১ জনের গায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে, মাথায় গুলি করে হত্যা করে লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই নৃশংস অভিযানে জিয়াউল আহসান ছাড়াও মেজর নওশাদ, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ, কমান্ডার সোহায়েল এবং এডিজি (অপস) মুজিব সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাবেক এই দেহরক্ষী।