আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশজুড়ে সংঘটিত ভয়াবহ গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও এক চাঞ্চল্যকর ও আবেগঘন সাক্ষ্য সামনে এসেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলী গুম ও খুনের সঙ্গে বরখাস্তকৃত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তার সাবেক দেহরক্ষী ও সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শুনানির সময় কড়া পুলিশি পাহারায় জিয়াউল আহসানকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।
ইলিয়াস আলী গুমের সময় জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যার বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
জবানবন্দি দেওয়ার সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক দেহরক্ষী ইমরুল কায়েস। তিনি জানান, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে বডিগার্ড বা রানার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি লক্ষ করেছেন কীভাবে একের পর এক মানুষকে গুম ও হত্যা করা হতো।
জবানবন্দি দেওয়ার সময় আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক দেহরক্ষী ইমরুল কায়েস। তিনি জানান, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে বডিগার্ড বা রানার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি লক্ষ করেছেন কীভাবে একের পর এক মানুষকে গুম ও হত্যা করা হতো।
র্যাব-১-এর টিএফআই সেল থেকে আনা ব্যক্তিদের কখনো সেলের ভেতরে, আবার কখনো গাড়িতে গুলি ও ইনজেকশন প্রয়োগ করে হত্যা করা হতো। নিজের দায়িত্ব পালনকালে তিনি চোখের সামনে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করতে দেখেছেন এবং কেবল ইনজেকশন দিয়েই ১০ থেকে ১২ জনকে মেরে ফেলা হয়েছে।
দেশের জন্য শপথ নিয়ে এমন নৃশংসতা দেখার পর বিবেকের তাড়নায় এবং সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে তিনি এই জবানবন্দি দিচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন, তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন যেন আর কোনো সৈনিককে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।