ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সঙ্গে একটি সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ানে’ দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজে থেকেই এই আগ্রহের কথা জানান। গত বুধবার প্রকাশিত ওই পডকাস্টে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগ এই মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত বা চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছালেও দুই পক্ষের মধ্যকার সামগ্রিক সম্পর্ক বর্তমানে বেশ ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বা পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হলে মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার সরাসরি সাক্ষাতের একটি বড় পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে এখন পর্যন্ত ইরানের নতুন নেতার সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে কোনো সাক্ষাৎ বা সরাসরি কথা হয়নি, তবে অদূর ভবিষ্যতে অনুকূল সুযোগ তৈরি হলে তিনি সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসতে অত্যন্ত আগ্রহী।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও অনুকূলে এলে তিনি অবশ্যই ইরানি নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। তিনি আরও দাবি করেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মোজতবা খামেনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন এবং দেশটির জনগণের একটি বড় অংশ তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখে।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও অনুকূলে এলে তিনি অবশ্যই ইরানি নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। তিনি আরও দাবি করেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মোজতবা খামেনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন এবং দেশটির জনগণের একটি বড় অংশ তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখে।
বংশপরম্পরায় প্রথমে তার বাবা শীর্ষ ক্ষমতায় ছিলেন এবং এখন তিনি দেশটির হাল ধরেছেন বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে মোজতবা খামেনির কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি না থাকায় তাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও অনানুষ্ঠানিক সূত্রে দাবি করা হয়েছিল যে ওই বিমান হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন, যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের মতে, মোজতবার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও শান্তি আলোচনার গতি কিছুটা কমে গেছে, কারণ সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারী ও কুরিয়ার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সম্ভাব্য এই বৈঠক প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে তিনি সাধারণত সব পক্ষের সঙ্গেই আলোচনার টেবিলে বসতে পছন্দ করেন এবং সঠিক সময় ও পরিস্থিতি তৈরি হলে এই সাক্ষাৎ হতে পারে, যা পুরোপুরি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান নমনীয় অবস্থান অতীতের বক্তব্যের তুলনায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে তিনি এর আগে মোজতবাকে ইরানের নেতৃত্বের জন্য ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।