বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সংবেদনশীল ও আলোচিত ঘটনা ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এখন দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মোড় নিয়েছে।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে নির্মমভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গণঅভ্যুত্থানের এই পরিচিত মুখ, যা দেশজুড়ে তৈরি করে তীব্র ‘হাদি ইফেক্ট’।
প্রাথমিকভাবে একে দেশীয় রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ মনে করা হলেও, ঢাকা মেট্রোপলিটন ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) ও সিআইডির তদন্তে এর পেছনে একটি আন্তর্জাতিক ব্লুপ্রিন্ট ও ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকারও বেশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মূল তীর ‘শাহীন চেয়ারম্যান’ নামের এক প্রবাসী অর্থদাতার দিকে, যিনি সিঙ্গাপুরে বসে এই হত্যার ছক কষেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২৬ সালের ৭ মার্চ, যখন মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেনকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা থেকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২৬ সালের ৭ মার্চ, যখন মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেনকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা থেকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
পরবর্তীতে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা পায়। বর্তমানে দুদেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এই আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।
এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের সদ্যবিদায়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক দাবি এই মামলায় রাজনৈতিক উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মমতার দাবি—আসামি গ্রেপ্তারের পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুলতে অনুরোধ করেছিলেন, কারণ তদন্তে অনেক গোপন নাম বেরিয়ে আসছিল।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানামুখী জল্পনা-কল্পনার মাঝেই হাদি হত্যায় এই ভারতীয় যোগসূত্র বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নাজুক সময়ে সামনে এলো।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানামুখী জল্পনা-কল্পনার মাঝেই হাদি হত্যায় এই ভারতীয় যোগসূত্র বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নাজুক সময়ে সামনে এলো।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে শিখনেতাদের ওপর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হামলার অভিযোগের পটভূমিতে হাদি হত্যাকাণ্ডের এই আঞ্চলিক মোড় স্বভাবতই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, অন্য দেশের রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশ এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায়।
বন্দুকধারীদের পরিচয় ছাপিয়ে এই বিপুল অর্থের উৎস এবং এর নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড কারা, তা জনসমক্ষে উন্মোচন করাই এখন বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।