গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কুয়ারচালা বারেক মার্কেট এলাকায় একটি পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।সোমবার রাতে হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত গাজীপুর সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্তদের জরুরি ভিত্তিতে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক ভ্যাকসিন বা টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে একটি শিয়াল হঠাৎ করেই বন্য পরিবেশ থেকে লোকালয়ে চলে আসে এবং ওই এলাকার একটি বসতবাড়িতে ঢুকে হালিমা আক্তার নামের এক নারীকে কামড়ে রক্তাক্ত করে।
এরপর শিয়ালটি আরও হিংস্র হয়ে আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে হানা দেয় এবং একের পর এক সামনে পড়া লোকজনকে কামড়াতে থাকে। শিয়ালের কামড়ে ও নখের আঁচড়ে একে একে হাসান মিয়া, শাওন, বিলকিস বেগম, মোরশেদা বেগম, হালিমা আক্তার, টিপু মিয়াসহ গ্রামের অন্তত ২০ জন বাসিন্দা কমবেশি আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, আকস্মিক এই শিয়ালের হামলায় প্রতিরোধ গড়ার আগেই বেশ কয়েকজন জখম হন।
খবর পেয়ে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শামিম আক্তার ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নেন এবং আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।
খবর পেয়ে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শামিম আক্তার ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নেন এবং আহতদের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শহিদুল হাসান শাকিল জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা শিয়ালটিকে শনাক্ত করা ও সেটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।
একই সাথে লোকালয়ে বন্য প্রাণী দেখলে সাধারণ মানুষকে নিজে থেকে তা না ধরে বা আঘাত না করে অনতিবিলম্বে বন বিভাগকে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফকরুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।