Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / নওগাঁ / কোটি টাকার প্রকল্প এখন ভূতের বাড়ি - Chief TV

কোটি টাকার প্রকল্প এখন ভূতের বাড়ি - Chief TV

2026-01-14  উজ্জ্বল কুমার, (নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি)  116 views
কোটি টাকার প্রকল্প এখন ভূতের বাড়ি - Chief TV

নওগাঁর রাণীনগরে চরমপন্থীদের পূর্ণবাসনের লক্ষ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প বর্তমানে ভূতের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। গত ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর উধাও হয়ে গেছে দুটি প্রকল্পের শতাধিক গরুসহ কোটি টাকার সম্পদ।

বর্তমানে অবকাঠামোগত বলতে শুধুমাত্র ভবন আছে, আর কিছুই নেই। সন্ধ্যার পর এই প্রকল্পের ভবনে বসে মাদকের আসর বসে। দুষ্কৃতিকারীরা এই আস্তানা থেকেই অত্র অঞ্চলে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। দ্রুত এই সরকারি সম্পত্তি নিজেদের দখলে নিয়ে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরমপন্থীদের (সর্বহারা) পূর্ণবাসনের লক্ষ্যে বিগত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের রাতোয়াল গ্রাম সংলগ্ন খাঁনপুকুর-রাতোয়াল রাস্তার পাশে বড়ইতলা নামক স্থানের খাস জমিতে স্বপ্ন চাষ কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি: এর নামে ৭৫ লাখ টাকা এবং আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লি: এর নামে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন এই দুটি ডেইরি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

উপজেলার চিহ্নিত সর্বহারারা এই সমিতির সদস্য ছিলেন, যারা এই প্রকল্পের লভাংশের অংশীদার। প্রকল্পের কাজ শেষে ২০২৪ সালের শুরুতে খামারে শতাধিক গরু ক্রয় করে কার্যক্রম চালু করা হয়।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর দুটি খামার এখন শূন্য পড়ে আছে। ভেস্তে গেছে কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প। বর্তমানে সমিতির সকল সদস্য পলাতক থাকায় খামার দেখভালের দায়িত্বে কেউ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম, জব্বার আলীসহ অনেকেই জানান, খামার স্থাপনের পর ভালোই চলছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর ওই সমিতির প্রভাবশালী সদস্যসহ অনেকেই রাতারাতি খামারের গরু থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু লুট করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে দুটি খামারে শুধু ঘর এবং কিছু অবকাঠামোগত উপকরণ ছাড়া আর কিছু নেই। সরকারের কোটি টাকার প্রকল্প বর্তমানে ভূতের বাড়িতে পরিণত হয়েছে।

স্থানটি নির্জন হওয়ায় সন্ধ্যার পর এখানে বসে মাদকসেবী ও কারবারীদের আসর বসে। দুষ্কৃতিকারীরা এই পরিত্যক্ত খামার থেকেই নানা ধরণের অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তাই দ্রুত এই প্রকল্প নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে পুরো এলাকাকে সুরক্ষিত স্থানে পরিণত করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, প্রকল্পটি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান তিনি।


Share: