ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো জানিয়েছেন, তিনি তার নোবেল শান্তি পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে আগ্রহী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ফক্স নিউজের উপস্থাপক সিন হেনিতিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রস্তাবের কথা বলেন।
গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন মাচাদো। পুরস্কারটি পাওয়ার জন্য ট্রাম্পও সক্রিয় চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে বাদ দিয়ে মাচাদকেই পুরস্কার প্রদান করে। সে সময় নিজ দেশে আত্মগোপনে থাকলেও পুরস্কার গ্রহণের জন্য ঝুঁকি নিয়ে নরওয়ের অসলোতে উপস্থিত হন তিনি।
সূত্রের দাবি, মাচাদোর হাতে নোবেল ওঠায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরালেও মাচাদোকে নতুন কোনো দায়িত্ব দেননি। যদিও ধারণা করা হয়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলের জয়ের পেছনে মূল নেতৃত্ব ছিল মাচাদোরই।
হোয়াইট হাউজের দুই কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, নোবেল পুরস্কার গ্রহণের মাধ্যমে মাচাদো কার্যত ট্রাম্পের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। তাঁদের একজনের মন্তব্য, যদি মাচাদো পুরস্কার গ্রহণ না করে প্রকাশ্যে বলতেন যে এটি ট্রাম্পের প্রাপ্য, তাহলে আজ তিনিই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন। অপর কর্মকর্তা আরও কঠোর ভাষায় বলেন, নোবেল গ্রহণ করাই মাচাদোর জন্য ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হয়েছে, যার ফলেই তিনি ক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কার ভাগাভাগির ইচ্ছা প্রকাশ করে মাচাদো বলেন, এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পকে এ প্রস্তাব দেননি। তবে সুযোগ পেলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানাতে চান যে ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে তারা প্রস্তুত।
এরই মধ্যে গত শনিবার গভীর রাতে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের অভিযানে নিকোলাস মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।
কিন্তু সেই প্রত্যাশায় পানি ঢেলে দেন ট্রাম্প নিজেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মাচাদোর ভেনেজুয়েলা শাসনের যোগ্যতা নেই, কারণ দেশটির জনগণ তাকে যথেষ্ট সম্মান করে না।
মাচাদোর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে তিনি বিস্মিত ও মানসিকভাবে আহত হয়েছেন।