আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও মানবিক রাষ্ট্র—যেখানে বিভাজন নয়, বরং আশা, নিরাময় এবং ঐক্য হবে রাজনীতির মূল ভিত্তি।”
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পলিসি সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বাস করে যেখানে আধুনিক বাজার অর্থনীতি কার্যকর থাকবে, প্রশাসন হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক, এবং ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ পাবে।”
নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে দলের মোট সদস্যদের প্রায় ৪৩ শতাংশই নারী, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।”
ডা. শফিকুর রহমান নতুন বাংলাদেশের পরিকল্পনায় নারী-পুরুষ সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সমান সুযোগ দেওয়া হবে এবং নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণে কোনো ধরনের বৈষম্য বরদাশত করা হবে না।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যে আরও বলা হয়, যারা সমান সুযোগ, ন্যায় ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাস করে, তারা জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারবে।
নতুন বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় যুব কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “কর্মসংস্থানহীন তরুণ সমাজ কোনো দেশের জন্য বড় ঝুঁকি, আর কর্মক্ষম তরুণ সমাজই একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে পারে।” তিনি একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন, যেখানে স্বচ্ছ বাজার অর্থনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা দুটোই নিশ্চিত থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে—সেটি জামায়াতে ইসলামী আপসহীন থাকবে।
বক্তব্যের শেষে তিনি স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ঐক্যের মধ্য দিয়ে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
সামিটের সূচনা পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াতের মাধ্যমে হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।