রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির নাম ওবায়দুল্লাহ এবং তাকে হত্যার অভিযোগে তার রুমমেট শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুচ্ছ বিবাদ এবং অনৈতিক প্রস্তাবের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং রাজধানীর একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ঘাতক শাহীন হোটেল হিরাঝিলের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তারা দুজন মতিঝিলের জসীম উদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সিগারেট এবং খাবার আনা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রথম দফায় কথা-কাটাকাটি হয়। শাহীন জানান, ওবায়দুল্লাহ তাকে বারবার বাইরে পাঠালেও পরে খাবার নিয়ে আসার পর ওবায়দুল্লাহ একাই তা খেয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে রাতে ওবায়দুল্লাহ ফোনে জোরে কথা বলায় শাহীনের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে, যা নিয়ে পুনরায় বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অনৈতিক প্রস্তাব দিলে শাহীন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ওবায়দুল্লাহ যখন গোসলখানায় কাপড় ধুতে যান, তখন শাহীন চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ড লুকানোর উদ্দেশ্যে শাহীন মরদেহটি সাতটি খণ্ডে বিভক্ত করেন এবং নিজের সাইকেলে করে রাজধানীর বিভিন্ন জনবহুল স্থানে ফেলে দেন। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের গেটের পাশে একটি পা, কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথা এবং ডাস্টবিনে ড্রামভর্তি দেহাংশ ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া কাকরাইল ও আমিনবাজার এলাকায় মরদেহের অন্যান্য অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে শাহীনকে সাইকেলে করে এসব খণ্ডিত অংশ ফেলতে দেখার পর পুলিশ তাকে হোটেল হিরাঝিল থেকে গ্রেপ্তার করে এবং তার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি উদ্ধার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরও শাহীন অত্যন্ত স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন এবং নিয়মিত নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। বর্তমানে মরদেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে আমিনবাজারের সালিপুর ব্রিজ এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহত ওবায়দুল্লাহর পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত শাহীনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।