ছবিঃ Artifisital Inteligens
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এক নারীকে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ও ছবি প্রকাশের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার দিরহাম (প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে দেশটির আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে খালিজ টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আবুধাবির ফ্যামিলি, সিভিল ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্লেমস কোর্ট সম্প্রতি এই রায় ঘোষণা করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর অনুমতি ছাড়া তার ছবি ও ভিডিও একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেছিলেন, যা তার গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি আদালতে অভিযোগ করলে, বিচারক গোপনীয়তা ভঙ্গের অপরাধে অভিযুক্তকে দায়ী সাব্যস্ত করেন। এর আগে ক্রিমিনাল কোর্টেও একই রায় দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আপিল আদালতও বহাল রাখে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আর আপিল না করায়, রায়টি এখন চূড়ান্ত।
রায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল সিভিল ট্রানজ্যাকশনস আইনের ২৮২ ধারা উদ্ধৃত করা হয়, যেখানে বলা আছে—
“যে কেউ অন্যের ক্ষতি করে, তা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেভাবেই হোক না কেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।”
আমিরাতে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে আইন অত্যন্ত কঠোর। কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, ভয়েস নোট বা স্ক্রিনশট শেয়ার করা সেখানে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেইল বা ব্লগ—যে কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে অনুমতি ছাড়া তথ্য প্রচার সাইবার অপরাধের শামিল। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ লাখ দিরহাম জরিমানা, কারাদণ্ড, এবং বিদেশিদের ক্ষেত্রে দেশ থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত হতে পারে।
উল্লেখ্য, আমিরাতে মানহানির সংজ্ঞা অত্যন্ত বিস্তৃত—যে কোনো বক্তব্য, লেখা বা ইঙ্গিত যদি কারও সুনাম বা সামাজিক মর্যাদাকে আঘাত করে, তবে সেটি মানহানিকর হিসেবে গণ্য হয়। এমনকি তথ্যটি সত্য হলেও, যদি তা অযথা প্রকাশে কারও সুনাম ক্ষুণ্ন করে, তবুও তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।