ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) অপচেষ্টা রুখতে দেশের ২৬ জেলার সীমান্তে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় ভারতের পাঁচ রাজ্যের সীমান্তবর্তী পয়েন্টগুলোতে বিপুল সংখ্যক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি সদস্যরা চারটি পালায় (শিফট) বিভক্ত হয়ে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই কড়া পাহারায় বিজিবিকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছেন স্থানীয় সীমান্তবর্তী বাসিন্দারাও।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিজিবি সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চার দিনে বিএসএফের এমন ২১টি পুশ ইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব ঘটনায় প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা বিজিবির সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিজিবি সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চার দিনে বিএসএফের এমন ২১টি পুশ ইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব ঘটনায় প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা বিজিবির সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়।
পুশ ইনের সম্ভাব্য পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শেরপুরসহ ২৬টি জেলায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্যদের পাশাপাশি সাদাপোশাকে বিজিবির বিশেষ টিমও সার্বক্ষণিক নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে।
সীমান্তের এই চরম উত্তেজনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন।
সীমান্তের এই চরম উত্তেজনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন।
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অবৈধ পুশ ইন বন্ধ করা, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নির্বিচারে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধসহ সার্বিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালো আলোচনা ও কঠোর প্রতিবাদ জানানো হবে বলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।