Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / গাজীপুর / সরকারি কবরস্থানে লাশ দাফনে বাধা - Chief TV

সরকারি কবরস্থানে লাশ দাফনে বাধা - Chief TV

2026-01-13  মাহাবুল ইসলাম, টংগী (গাজীপুর) প্রতিনিধি  64 views
সরকারি কবরস্থানে লাশ দাফনে বাধা - Chief TV

গাজীপুরের টঙ্গী ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের আউচপাড়া খাঁপাড়া এলাকায় সরকারি কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা দাবি করে একটি পক্ষ দাফনে বাধা দেওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে ১১ বিঘা সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা এই কবরস্থানে সাত শতাধিক কবর রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারি বরাদ্দে এখানে স্থাপনা নির্মাণ ও সংস্কারকাজও করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত এই জমি সম্প্রতি মালিকানা দাবি করে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আতাউর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে জমির মালিক দাবি করে কবরস্থানের প্রবেশমুখে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। পরে কবরস্থানের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় আকরাম হোসেন নামে আরেক ব্যক্তিকে। সম্প্রতি এক মৃত ব্যক্তির দাফনের সময় বাধা সৃষ্টি হলে কবর খোঁড়াখুঁড়ি শেষ করার পরও পরিবারটিকে লাশ অন্য স্থানে নিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়।

এলাকাবাসী জানান, হঠাৎ করে উঠে আসা মালিকানা দাবিকে কেন্দ্র করে কবরস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন কবরস্থানটিকে সরকারি খাস জমি হিসেবে দাবি করে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করেছে।

তদন্তে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে নাছির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি সরকারি খাস জমির ওপর মালিকানা দাবি করে মামলা করেন, যেখানে বিবাদী ছিল সরকার। প্রায় ৩২ বছর ধরে মামলাটি উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। নাছির উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন আতাউর রহমান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অদৃশ্য প্রভাবের কারণে একাধিকবার মামলার রায় মালিকানা দাবি করা পক্ষের অনুকূলে গেছে। এ কারণে প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছে।

৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ মো. আলেক বলেন, “আমরা জন্মের পর থেকেই এই জায়গাটিকে সরকারি খাস জমির কবরস্থান হিসেবে জেনে আসছি। এলাকায় কবরস্থানের জায়গার সংকট রয়েছে। এখন একদল লোক মালিকানা দাবি করে দাফনেও বাধা দিচ্ছে।”

মালিকপক্ষের দাবি করা আতাউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বে থাকা আকরাম হোসেন বলেন, “এটা আমার সম্পদ নয়, আমি শুধু দেখভাল করি। দাফনে আমি বাধা দিইনি, মালিক পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে গাজীপুরের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, “মামলার বাদী উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত রায় না পাওয়া পর্যন্ত কেউ অবৈধ স্থাপনা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শেষ বিদায়ে ‘সাড়ে তিন হাত মাটি’ পর্যন্ত না পাওয়ায় বিষয়টি মানবিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


Share:

Single Page