বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা হতে পারে।
মঙ্গলবার উভয় পক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর বিচারিক প্যানেলের সদস্য মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়। অপরদিকে আসামিপক্ষ তাদের খালাস দাবি করেন।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।
গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন— সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলন আরও ব্যাপক রূপ নেয়।
এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। বর্তমানে জুলাই–আগস্টের সেই সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চে চলমান রয়েছে।