নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে সিলিকন ভ্যালি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোটি মানুষের স্বপ্নের দেশ। উন্নত জীবন, স্বাধীনতা ও সুযোগের হাতছানি মানুষকে আকর্ষণ করে চলেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ভিসা নীতি ও অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর খবর সেই স্বপ্নে নতুন প্রশ্ন যোগ করেছে।
বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘মার্কিন ভিসা নীতি’ আসলে কোনো একক দেশের বিরুদ্ধে নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, দুর্নীতি দমন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বিভিন্ন দেশের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর ভিসা কড়াকড়ি আরোপ করে থাকে। নাইজেরিয়া, উগান্ডা, নিকারাগুয়া কিংবা বেলারুশ—এমন বহু দেশেই এই নীতি প্রয়োগ হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—এই রাজনৈতিক ভিসা নীতি সাধারণ শিক্ষার্থী, পর্যটক বা ব্যবসায়ীদের জন্য নয়। স্টুডেন্ট বা ট্যুরিস্ট ভিসা মূলত নির্ভর করে আবেদনকারীর যোগ্যতা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও দেশে ফেরার নিশ্চয়তার ওপর।
সম্প্রতি চার্টার্ড বিমানে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো নিয়েও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে এগুলো মূলত অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘টাইটেল ৮’ আইনের আওতায় নেওয়া ব্যবস্থা। ভারত, মেক্সিকোসহ বহু দেশের নাগরিকই এই প্রক্রিয়ার শিকার হচ্ছেন। অর্থাৎ বিষয়টি বাংলাদেশকেন্দ্রিক নয়, বরং বৈশ্বিক অভিবাসন বাস্তবতার অংশ।
দালালের ফাঁদে পড়ে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে আমেরিকায় যাওয়ার চেষ্টা এখন ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ। ‘ডাংকি রুট’ নামে পরিচিত এই পথে জঙ্গল, সহিংসতা, মানবপাচার এবং শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে দেশে ফেরার করুণ পরিণতি অপেক্ষা করে। অনেকেই জমি বিক্রি বা ঋণ নিয়ে ২০–৪০ লাখ টাকা খরচ করে সর্বস্ব হারাচ্ছেন।
তবে এর উল্টো চিত্রও আছে। বৈধ পথে যারা মেধা ও দক্ষতা নিয়ে এগোচ্ছেন, তাদের জন্য আমেরিকার দরজা এখনও খোলা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। হাজারো তরুণ এখন হার্ভার্ড, এমআইটি বা স্ট্যানফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও গবেষণা করছেন।
আমেরিকা আজও দক্ষ জনশক্তিকে স্বাগত জানায়—বিশেষ করে প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও গবেষণা খাতে। H-1B ভিসা, স্টেম শিক্ষার্থী কর্মসূচি ও গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য পেশাজীবীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘আমেরিকান ড্রিম’ এখন আর শর্টকাটে পাওয়া যায় না। অবৈধ পথ বন্ধ হয়ে এসেছে। দালালের প্রলোভন নয়—দক্ষতা, শিক্ষা ও বৈধ প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতের একমাত্র নিরাপদ রাস্তা। আবেগ নয়, বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই আজ সময়ের দাবি।