Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / জয়পুরহাট / জয়পুরহাটের কালাইয়ে তীব্র গরম ও লাগাতার লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত - Chief TV

জয়পুরহাটের কালাইয়ে তীব্র গরম ও লাগাতার লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত - Chief TV

2026-04-18  জুয়েল শেখ, জয়পুরহাট প্রতিনিধি  27 views
জয়পুরহাটের কালাইয়ে তীব্র গরম ও লাগাতার লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত - Chief TV

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ব্যাপক লোডশেডিং। হঠাৎ করে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন মারাত্মক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

দিনের বেলায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলা, আর রাতভর একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কালাই উপজেলার মানুষ। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেককে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে দেখা গেছে।

অসহনীয় গরমে ঘাম ঝরতে থাকায় পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গরু ও মুরগির খামারে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তীব্র গরমে নবজাতক শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান, আলো ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে পড়ায় তাদের ঝুঁকি বেড়েছে।

অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ সেবা এখন অনলাইননির্ভর হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেবাগ্রহীতারাও পড়েছেন বিড়ম্বনায়। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক কাজী মো. জুয়েল হোসেন ও ফারুক সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে মশার উপদ্রব ও লাগাতার লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের রাতের ঘুমই হারাম হয়ে গেছে। নির্ঘুম রাত কাটিয়ে তারা দিনে বই নিয়ে বসলেও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগে আছি।

উপজেলার গভীর নলকূপের মালিক আব্দুল হাকিম,আব্দুল মজিদ, শাহারুল ইসলাম, ওমর ফারুক, আবুল খায়ের, সাইদুর রহমান ও মোতাকাব্বের সরকার বলেন,  “আমরা ফসল ফলাই, দেশ চালাই; অথচ বিদ্যুতের অভাবে আজ নিজেরাই অসহায়। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে মাঠের ধান পুড়ে যাবে, ক্ষতির দায় কে নেবে?

কালাই পৌরশহরের কম্পিউটার ব্যবসায়ী হাবিব বলেন, “প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। জেনারেটরের ডিজেল কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। লাভ তো হচ্ছেই না, উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনলাইন কাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হাতিয়র বাজারের বেলাল হোসেন ও নুনুজ বাজারে রেজুযান নামের মুদি ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, “বিদ্যুতের এই যাওয়া-আসায় দোকান চালানোই দায় হয়ে গেছে। ফ্রিজে রাখা দুধ, ঘি ও ঠান্ডাজাত পণ্য নষ্ট হচ্ছে নিয়মিত। ক্রেতারা এসে অন্ধকার দোকান দেখে ফিরে যায়। প্রতিদিনই লোকসান বাড়ছে, কিন্তু এর সমাধান মিলছে না।

কালাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ৫২ হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট। অথচ বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতিতে পুরো উপজেলায় বাড়ছে লোডশেডিং ও জনদুর্ভোগ।

এ বিষয়ে কালাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. যোবায়ের আলী বসু মিয়া বলেন, উপজেলায় প্রায় ৫২ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


Share: