কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিয়ের দাবিতে এক তরুণী টানা ১২ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে নুসরাত জাহান নামের ওই তরুণী এখন প্রেমিকের ঘরের দুয়ারে অবস্থান করছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে।
অনশনরত তরুণীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাঈদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা এই সম্পর্কের সূত্র ধরে গত দুই বছর ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎও করেন তাঁরা।
সম্প্রতি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবু সাঈদ তাঁকে কুমিল্লার দেবিদ্বারের এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে দুদিন থাকার পর বিয়ের চাপ দিতেই নুসরাতকে একা ফেলে রেখে পালিয়ে যান সাঈদ।
এরপর বহু খোঁজাখুঁজি করে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা জোগাড় করে নুসরাত সেখানে পৌঁছালে সাঈদ প্রথমে সম্পর্ক অস্বীকার করেন এবং তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালান।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালিশি বৈঠকের আয়োজন করলেও অভিযুক্ত যুবক মাঝপথে বৈঠক থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই নুসরাত ওই বাড়িতে অনশন শুরু করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন, হয় সাঈদ তাঁকে বিয়ে করবে, না হলে এই বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হবে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালিশি বৈঠকের আয়োজন করলেও অভিযুক্ত যুবক মাঝপথে বৈঠক থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই নুসরাত ওই বাড়িতে অনশন শুরু করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন, হয় সাঈদ তাঁকে বিয়ে করবে, না হলে এই বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হবে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রেমিক আবু সাঈদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। খবর পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও তরুণী বিয়ে ছাড়া অন্য কোনো প্রস্তাব মানতে রাজি হননি।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মূল ঘটনার সূত্রপাত রাজধানী ঢাকার কাফরুল থানা এলাকায় হওয়ায় এবং কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে, তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতা বা অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যায়নি।