দেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত বছরে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবার শরীরেই পরীক্ষার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে মোট পাঁচজন আক্রান্ত হন এবং তাদের সবাই মারা যান, যা ভাইরাসটির উচ্চ মৃত্যুহারকে আবারও সামনে এনেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যায়। এটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ভাইরাস, যেখানে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৭২ শতাংশের মৃত্যু ঘটে। সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, নিপাহ ভাইরাসের জন্য এখনো কোনো কার্যকর চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা খেজুরের রস পান থেকে বিরত থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই প্রতিবছরের মতো এবারও এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন।
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য পরামর্শ
সভায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিম্নোক্ত পরামর্শ দেওয়া হয়—
কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে
আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল খাওয়া যাবে না
ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে
নিপাহ রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে
আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে