ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহমেদাবাদের মেঘানি নগরের আকাশে যখনই কোনো বিমান ওঠানামা করে, তখনই চোখ ভিজে ওঠে সীতা পাটনির। আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১২ জুন দুপুরে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১ উড্ডয়নের পরপরই একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে বিধ্বস্ত হলে পুরো এলাকা এক লহমায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
জ্বলন্ত বিমানের একটি অংশ এসে পড়েছিল সীতার চায়ের দোকানের ওপর, যেখানে ঘুমিয়ে ছিল তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে আকাশ। ছেলেকে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হলেও শেষ রক্ষা হয়নি; ২০ দিন পর সীতা জানতে পারেন দুর্ঘটনার দিনই তার সন্তান মারা গেছে।
এই ভয়াবহ আকাশ ট্র্যাজেডিতে বিমানের ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রুসহ মাটিতে থাকা আরও ১৮ জন মিলে মোট ২৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। মেঘানি নগরের যে শিশুরা একসময় আকাশে উড়ন্ত বিমান দেখে হাত নাড়ত, এখন সেই বিমানই তাদের জন্য এক চরম আতঙ্ক আর আজীবন বেদনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় নিহতদের পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
আহমেদাবাদ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দা সালিম প্যাটেলের গল্পটাও সমপরিমাণ বেদনার। যুক্তরাজ্যের বিশেষ স্কিমে লটারির মাধ্যমে কাজের ভিসা পেয়ে লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল তার ছেলে সাহিল প্যাটেলের। যে ভিসা পরিবারে উৎসবের আমেজ এনে দিয়েছিল, ফ্লাইট ১৭১-এর দুর্ঘটনা সেটিকেই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডে রূপান্তর করে।
আহমেদাবাদ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দা সালিম প্যাটেলের গল্পটাও সমপরিমাণ বেদনার। যুক্তরাজ্যের বিশেষ স্কিমে লটারির মাধ্যমে কাজের ভিসা পেয়ে লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল তার ছেলে সাহিল প্যাটেলের। যে ভিসা পরিবারে উৎসবের আমেজ এনে দিয়েছিল, ফ্লাইট ১৭১-এর দুর্ঘটনা সেটিকেই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডে রূপান্তর করে।
সালিম প্যাটেলের অভিযোগ, প্রাথমিক তদন্তে পাইলটকে বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটিই এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল। এছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া ও টাটা গ্রুপের প্রতিনিধিরা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিলেও নানা জটিল শর্ত জুড়ে দিয়ে তাদের হয়রানি করছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোহাম্মদ শেঠওয়ালা এই দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী সাদিকা ও কন্যাসন্তান ফাতিমাকে হারিয়ে এখন দ্বৈত সংকটে ভুগছেন। স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি স্ত্রীর ভিসার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চলতি বছরের শুরুতে তাকে যুক্তরাজ্য ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার ডলার ব্যয় করে এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, যেখানে এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক বা আইনি সহায়তা মেলেনি।
এক বছর পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় এয়ার ইন্ডিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠছে।