খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেজমেন্টে থাকা বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেলের মজুত থাকায় আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার রাতে লাগা এই ভয়াবহ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটের প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে।
জেনারেটর কক্ষের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেখানে চিকিৎসাধীন প্রায় আড়াই শ রোগীকে ক্রেন ও বিভিন্ন উপায়ে উদ্ধার করে দ্রুত শহরের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে দুর্ভাগ্যবশত, মিসেস লাভলী (৬৮) নামে এক হৃদরোগী অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরপরই মারা গেছেন। তিনি খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে হাসপাতালের বেজমেন্ট এলাকায় একটি বিকট শব্দ হওয়ার পরপরই জেনারেটর কক্ষ থেকে তীব্র ধোঁয়া বের হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে এই ধোঁয়া ও আগুন হাসপাতালের ১১ তলা ভবন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে রোগী, স্বজন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে হাসপাতালের বেজমেন্ট এলাকায় একটি বিকট শব্দ হওয়ার পরপরই জেনারেটর কক্ষ থেকে তীব্র ধোঁয়া বের হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে এই ধোঁয়া ও আগুন হাসপাতালের ১১ তলা ভবন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে রোগী, স্বজন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।
খবর পেয়ে ৯টা ৩৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমাতে স্থানীয়রা হাসপাতালের জানালার কাচ ভেঙে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ রানা এবং সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, বেজমেন্টে বিপুল অক্সিজেন সিলিন্ডার, ডিজেল এবং পার্কিংয়ে থাকা মোটরসাইকেল ও গাড়ি থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়ায়।
রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও হাসপাতালের দুটি মূল অক্সিজেন প্ল্যান্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় সচল করতে অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যেতে পারে।