সিলেটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি তুহিন আহম্মদ হৃদয় (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট মহানগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তুহিন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার উত্তর দেবপাড়া এলাকার মো. দুলু মিয়ার ছেলে। র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী ও অভিযুক্ত তুহিন আহম্মদ হৃদয় সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই-বোন এবং তারা একই বাড়িতে বসবাস করতেন। পাশাপাশি থাকার সুবাদে তুহিন দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণী ও অভিযুক্ত তুহিন আহম্মদ হৃদয় সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই-বোন এবং তারা একই বাড়িতে বসবাস করতেন। পাশাপাশি থাকার সুবাদে তুহিন দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
তরুণী সেই কুপ্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করলে একপর্যায়ে তুহিন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১৩ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তরুণীকে ঘরে একা পেয়ে তুহিন জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে এবং দ্রুত বিয়ে করার প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করে।
পরবর্তীতে ছবি ও ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ভিকটিমকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি টের পেয়ে লম্পট তুহিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
পরবর্তীতে তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে পুরো লোমহর্ষক ঘটনাটি প্রকাশ পায়। ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি অভিযুক্তের পরিবারকে জানালে তারা লোকলজ্জার ভয়ে দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করে তরুণীকে ঘরে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
পরবর্তীতে তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে পুরো লোমহর্ষক ঘটনাটি প্রকাশ পায়। ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি অভিযুক্তের পরিবারকে জানালে তারা লোকলজ্জার ভয়ে দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করে তরুণীকে ঘরে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
এই নিয়ে এলাকায় একটি গ্রাম্য সালিশি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অভিযুক্ত তুহিন ধর্ষণের বিষয়টি সবার সামনে স্বীকার করে। তবে পরবর্তীতে তুহিনের পরিবার বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং কোনো সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগী তরুণী নিজেই বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব আসামিকে গ্রেফতারে ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট শহরের আম্বরখানা থেকে তাকে খাঁচাবন্দি করতে সক্ষম হয়।