কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়েশা খাতুনকে নির্মমভাবে হত্যার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো রহস্যের জট খোলেনি। মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যার বিস্ফোরণ ঘটেছে রাজপথে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকেই চিলমারী উপজেলা জুড়ে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে জনজীবন। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং পরে চিলমারী মডেল থানার সামনে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করে সড়ক অবরোধ করেন। এতে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। প্রতিবাদকারীদের কণ্ঠে তখন একটাই দাবি—“আয়েশার খুনিদের ফাঁসি চাই”, “পুলিশ কেন নীরব?”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। তিনি আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় কয়েক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে তদন্তের ধীরগতিতে স্থানীয়দের অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। চিলমারী মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার জানিয়েছেন, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং একাধিক টিম দিনরাত কাজ করছে। খুব শিগগিরই হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগে থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আয়েশা। কয়েক ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার না করায় জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ আরও গভীর হচ্ছে।
স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি “দ্রুত বিচার না হলে আরও কঠোর আন্দোলন আসছে”