২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ কোটি টাকার বাজেটকে দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা এবং পরনির্ভরশীল করার এক বিশাল উচ্চাভিলাষী মহাপ্রকল্প বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই মেগা-বাজেট কোনোভাবেই জাতির বাস্তব চাহিদার প্রতিফলন নয়, বরং এটি জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি।
বাজেটের ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি পূরণে সরকারের ব্যাংকমুখী হওয়া বেসরকারি খাতের দেশীয় বিনিয়োগকে পুরোপুরি স্থবির করে দেবে এবং জনগণের আমানতকে ঝুঁকিতে ফেলবে, যার চড়া মূল্য দিতে হবে এদেশের খেটে খাওয়া আমজনতাকে।
তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও ভয়াবহ বিনিয়োগ সংকটের মাঝে ৬ লাখ ৯৫... হাজার কোটি টাকার দানবীয় রাজস্ব আদায়ের চাবুক মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের পিঠে চালানো হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিবৃতিতে মাওলানা মামুনুল হক সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের তীব্র বৈষম্য তুলে ধরে বলেন, দেশের সিংহভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২৭,৮৮১ কোটি টাকা, অথচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ৩১,০৯৯ কোটি টাকা, যা কৃষিকে বাঁচানোর বদলে আমলাতান্ত্রিক শাসনযন্ত্রকে চাঙ্গা রাখার প্রমাণ দেয়।
বিবৃতিতে মাওলানা মামুনুল হক সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের তীব্র বৈষম্য তুলে ধরে বলেন, দেশের সিংহভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২৭,৮৮১ কোটি টাকা, অথচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ৩১,০৯৯ কোটি টাকা, যা কৃষিকে বাঁচানোর বদলে আমলাতান্ত্রিক শাসনযন্ত্রকে চাঙ্গা রাখার প্রমাণ দেয়।
একইভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বিভাজনেও বৈষম্য করা হয়েছে এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগকে মাত্র ১৮,৪৫৭ কোটি টাকা দিয়ে চরম অবহেলা করা হয়েছে।
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে নিহত শহীদদের পরিবারের পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসার জন্য কোনো বিশেষ রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠন করা হয়নি।
পরিশেষে তিনি বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্বে অবিলম্বে কৃষি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাস্তবসম্মতভাবে বৃদ্ধি করা, অর্থপাচারকারী ও ব্যাংক ডাকাতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া এবং শাপলা চত্বরের শহীদদের পরিবারের জন্য পৃথক বিশেষ বরাদ্দ সংযোজনের জোর দাবি জানান।