ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে এবার প্রায় তিন লাখ ভোট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সংসদ নির্বাচনে ৩৭ হাজার ৭৪৬ এবং গণভোটে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৯৭টি ভোট বাতিল হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যালট পেপারে ভুল সিল ও ভাঁজ দেওয়া ও গণভোটে বুঝতে না পেরে ডাবল চিহ্ন দেওয়ায় এসব ভোট বাতিল হয়েছে।
বগুড়া জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার ৭টি সংসদীয় আসনে ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭টি। এর মধ্যে মোট ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ জন। ‘না’ ভোট দিয়েছেন ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৩৫ জন। আর বাতিল হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৯৭ ভোট। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনে বাতিল হয়েছে ৩৭ হাজার ৭৪৬।
এর মধ্যে বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৮৩৪ ভোট, গণভোটে বাতিল হয় ৩৪ হাজার ২৩২ ভোট।
বগুড়া-২ আসনে সংসদ নির্বাচনে ৪ হাজার ৬৯১ আর গণভোটে ৩১ হাজার ৩৪৭ ভোট বাতিল হয়েছে। বগুড়া-৩ আসনে সংসদ নির্বাচনে ৪ হাজার ৭৭০ এবং গণভোটে ২৫ হাজার ৯৫৮ ভোট বাতিল হয়েছে। বগুড়া-৪ আসনে সংসদ নির্বাচনে ৪ হাজার ৪৬৮ এবং গণভোটে বাতিল হয়েছে ৩৩ হাজার ৭১৬ ভোট। বগুড়া-৫ আসনে সংসদ নির্বাচনে ৮ হাজার ৫৫১ এবং গণভোটে বাতিল হয়েছে ৫৬ হাজার ২১৫ ভোট। বগুড়া-৬ আসনে সংসদ নির্বাচনে ৪ হাজার ৯৯৬ এবং গণভোটে বাতিল হয়েছে ২৬ হাজার ৩৪৮ ভোট। বগুড়া-৭ আসনে সংসদ নির্বাচনে ৬ হাজার ৪৩৬ এবং গণভোটে বাতিল ভোটের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৬৮১টি।
বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ভোটাররা ব্যালট পেপারে একাধিক প্রতীকের ওপর সিল দেন কিংবা সিলের কালি এমনভাবে লেপ্টে যায়, যা অন্য প্রতীকের ওপরও পড়েছে আর সেই ভোটটি বাতিল বলে গণ্য হয়েছে। এ ছাড়া ব্যালট পেপারটি লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ না করে আড়াআড়িভাবে ভাঁজ করার কারণে সিলের কালি অন্য প্রতীকে লেগেও অনেক ভোট নষ্ট হয়েছে। সেগুলো বাতিল করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) সাধারণ সম্পাদক কে জি এম ফারুক বলেন, এজন্য নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উচিত ছিল ভোটারদের সচেতন করা, নানাভাবে ভোটদানের প্রচার চালানো। এজন্য গ্রামেগঞ্জে নাটক, তথ্যচিত্র প্রচার করা প্রয়োজন ছিল; কিন্তু বাস্তবে তা করা হয়নি। এ কারণে বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ ভোট বাতিল হয়েছে।