রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসার বাথরুমের পেছনে বিশেষভাবে নির্মিত একটি গোপন সুড়ঙ্গে আত্মগোপন করে ছিলেন বহুল আলোচিত প্রতারক মির্জা আবুল বাশার মামুন। দীর্ঘ নজরদারির পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার গভীর রাত থেকে গুলশান-২ এলাকার একটি বাসা ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে বাসার ভেতরে বাথরুমের পেছনে তৈরি করা গোপন সুড়ঙ্গ থেকে আবুল বাশারকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আবুল বাশার ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববির স্বামী।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান জানান, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই কয়েকদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, সর্বশেষ তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বাসাটি ঘিরে ফেলা হয়। পরে বিশেষ অভিযানে তাকে আত্মগোপনস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশান থানার একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান, বাড্ডা, বনানী, খিলক্ষেত, ভাটারাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও গত বছরের অক্টোবরে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পটুয়াখালীর বাসিন্দা আবুল বাশার ‘বিটিএল গ্রুপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে জমি, চাল ও তেলের ডিলারশিপ দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী, সেনা সদস্য, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এছাড়া সম্প্রতি একটি এগ্রো ফার্ম থেকে কোরবানির পশু নিয়ে অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।