বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্টি ‘মাসুদ রানা’। এই কালজয়ী চরিত্রকে ঘিরে জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত নতুন চলচ্চিত্রে একটি বিশেষ পার্টি গানে পারফর্ম করে শোবিজে আলোচনায় উঠে এসেছেন নবাগত শিল্পী আবান্তিকা রহমান। নৃত্য থেকে অভিনয়ে আসা এই শিল্পীর চলচ্চিত্র যাত্রার গল্পটি যেন রূপকথার মতোই।
সিনেমাটিতে সুযোগ পাওয়ার নেপথ্য গল্প বলতে গিয়ে আবান্তিকা জানান, মূলত নৃত্যশিল্পী হিসেবেই তার পথচলা। জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে অডিশনের ডাক পাওয়ার পর কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আব্দুল আজিজের আশ্বাসে তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
তার নাচের পারদর্শিতাই তাকে এই বড় প্রজেক্টের ‘পার্টি সং’-এর জন্য সুযোগ করে দেয়।
‘মাসুদ রানা’র মতো বিশাল ক্যানভাসের প্রজেক্টে যুক্ত হতে পেরে উচ্ছ্বসিত এই শিল্পী। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং পাঠকদের আবেগের জায়গা। তবে তিনি এটিকে কোনো প্রচলিত ‘আইটেম’ গান হিসেবে দেখতে নারাজ।
আবান্তিকার ভাষ্যমতে, এটি গল্পের প্রয়োজনে নির্মিত একটি পার্টি সং, যেখানে অভিনয়ের দক্ষতাও সমানভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি। নাচের অভিজ্ঞতা থাকলেও সিনেমার ক্যামেরার সামনে কাজ করা তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল, যা তাকে ভবিষ্যতে আরও পরিপক্ক শিল্পী হয়ে ওঠার প্রেরণা জোগাচ্ছে।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আবান্তিকা জানান, পুরো ইউনিটের আন্তরিকতা কাজটিকে সহজ করে দিয়েছিল। তবে বালুর মধ্যে নাচের দৃশ্য ধারণ করা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। প্রচণ্ড গরমের মাঝে বারবার বালিতে পা আটকে যাওয়ার মতো চ্যালেঞ্জগুলো সামলে তবেই তাকে পারফর্ম করতে হয়েছে।
জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে তাকে দেশের ‘সেরা নৃত্যশিল্পী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া প্রসঙ্গে আবান্তিকা বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তার দায়িত্ববোধ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি মনে করেন, শিল্পীর প্রকৃত মূল্যায়ন করেন দর্শক। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন তার মূল লক্ষ্য। অভিনয় ও নাচ—দুটোকে তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। নাচের প্রতি ভালোবাসা আর অভিনয়ের প্রতি তার তীব্র ক্ষুধা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই নিজেকে ভবিষ্যতে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান তিনি।
সুখবর হলো, জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নায়িকা হিসেবে ইতোমধ্যে দুটি সিনেমার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আবান্তিকা। এখন সঠিক সময়ের অপেক্ষা। যদিও ‘মাসুদ রানা’র কাজ শুরু হয়েছিল বছর পাঁচেক আগে, সেসময় তিনি শৈশবের গণ্ডি পেরিয়েছেন মাত্র। তাই মূল চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ না থাকলেও, যতটুকু কাজের সুযোগ পেয়েছেন তাতেই তিনি সন্তুষ্ট।
নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই নবাগত শিল্পী জানান, তিনি কেবল একজন ভালো মানুষ হয়েই বিনোদন অঙ্গনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চান। তার এই নিষ্ঠা ও একাগ্রতা বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনছে।