ইসলাম ধর্মে জান্নাতকে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির আবাস হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে মুমিনদের সঙ্গে তাদের নেককার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও প্রিয়জনদের একত্রিত করার সুসংবাদ রয়েছে। তবে দুনিয়ার জীবনে কোনো নারীর যদি একাধিক বিয়ে হয়ে থাকে, তবে তিনি জান্নাতে কোন স্বামীর সঙ্গে থাকবেন— এ নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল ও প্রশ্ন জাগে।
পবিত্র কোরআনে সরাসরি এই বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা না থাকলেও হাদিস ও ইসলামি পণ্ডিতদের ব্যাখ্যার আলোকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মতামত পাওয়া যায়। কিছু আলেমের মতে, জান্নাতে ওই নারীকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও পছন্দের অধিকার দেওয়া হবে এবং তিনি স্বভাব-চরিত্রের দিক থেকে সবচেয়ে মানানসই স্বামীকে বেছে নেবেন।
আবার উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের সূত্রে জানা যায়, নারী সেই স্বামীকে বেছে নেবেন যিনি দুনিয়াতে তার সঙ্গে সবচেয়ে উত্তম আচরণ করেছিলেন। অন্যদিকে, আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসের ওপর ভিত্তি করে অনেক তাফসিরকারক মনে করেন, নারী জান্নাতে তার শেষ স্বামীর সঙ্গেই থাকবেন।
এসব মতামতের সমন্বয় করে আধুনিক ইসলামি গবেষকরা বলেন, যদি সব স্বামীর চরিত্র ও আচরণ সমান মর্যাদাসম্পন্ন হয়, তবে নারী শেষ স্বামীর সঙ্গী হবেন, আর আচরণগত পার্থক্য থাকলে তিনি নিজের পছন্দমতো স্বামীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহ তাআলার হাতে, যিনি জান্নাতবাসীদের জন্য সর্বোত্তম সুখ ও সন্তুষ্টির ব্যবস্থা করবেন।