শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চতুর্থ দিনের মতো ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বর থেকে রোড মার্চটি যাত্রা শুরু করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা প্রায় ১০টি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় ‘হাদির ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘রক্ত বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’ এবং ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মার্চ শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে বারবার শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো সরকার এমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা তথ্য উপস্থাপন করেনি, যা থেকে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আন্তরিকতা বোঝা যায়।
তিনি আরও বলেন, আদালতে চার্জশিট দাখিলের কথা থাকলেও যদি শুধু নামমাত্র চার্জশিট দেওয়া হয়, তাহলে তা জনগণ মেনে নেবে না। তার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কারা নির্দেশ দিয়েছে—সেই মূল অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ রোড মার্চটি শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বর থেকে শুরু হয়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়, সিটি কলেজ হয়ে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড় অতিক্রম করবে। এরপর মিছিলটি মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর হয়ে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে উত্তরা বিবিএনএস সেন্টারের সামনে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেবে।
পরবর্তী পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রোড মার্চটি বসুন্ধরা যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকা পেরিয়ে বাড্ডায় পৌঁছাবে। সেখান থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে রামপুরার টিভি সেন্টারের দিকে অগ্রসর হবে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ী পার্ক এলাকায় শেষ ধাপে প্রবেশ করবে কর্মসূচি। সবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আবার শাহবাগে ফিরে সমাপনী জমায়েতের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত চার দফা দাবিগুলো হলো—
এক. খুনি, পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী ও আশ্রয়দাতাসহ পুরো হত্যাচক্রের বিচার আগামী ২৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
দুই. বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।
তিন. ভারত যদি আশ্রয় নেওয়া খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।
চার. সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।