লালমনিরহাট জেলার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল সদর হাসপাতালটি এখন নিজেই ‘রোগাক্রান্ত’ হয়ে পড়েছে। তীব্র জনবল সংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং নার্স ও টেকনিশিয়ান পদ শূন্য থাকায় এখানে জরুরি চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি এখন চরমে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে মঞ্জুরিকৃত ১০৪ জন মেডিকেল অফিসারের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ পদই শূন্য। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যারা দায়িত্বরত আছেন, তাদের ওপরও পড়ছে অতিরিক্ত কাজের চাপ, যার ফলে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে এবং ভোগান্তি কমাতে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার একটি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৭ বছর পার হয়ে গেলেও নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় ভবনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। আধুনিক এই ভবনটি পড়ে থাকায় একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে এসেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান না থাকায় অনেককেই বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটতে হচ্ছে, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য ব্যয়বহুল।
হাসপাতালের এই বেহাল দশার কথা স্বীকার করেছেন স্বয়ং লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমজান আবু আল হাজ্জাজ। তিনি বলেন:
"১০৪ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আমাদের আছে মাত্র ১১ জন। এই সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল সংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়া সত্যিই দুরূহ হয়ে পড়েছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।"
লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষের দাবি, অতি দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং নবনির্মিত ২৫০ শয্যার ভবনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে জেলার স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক করা হোক।