Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / আন্তর্জাতিক / খামেনির শেষ বিদায়ে গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে মানুষের ঢল - Chief TV

খামেনির শেষ বিদায়ে গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে মানুষের ঢল - Chief TV

2026-07-04  ডেস্ক রিপোর্ট  33 views
খামেনির শেষ বিদায়ে গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে মানুষের ঢল - Chief TV
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের বাইরে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার ভোর থেকেই শোকাহত মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় জনসাধারণের জন্য মোসাল্লা কমপ্লেক্সের দ্বার উন্মুক্ত করার আগেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনি এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এরপর দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের পর, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির অবকাশে প্রায় চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে এই বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
 
গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া সাতদিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ইরান ও ইরাকের একাধিক শহরে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার রাতেই খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়। শুক্রবার ঐতিহাসিক এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
 
এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, বিশেষ দূত, আরব উপজাতীয় নেতা, লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর পরিবার এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
 
ভারতের শিখ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর বৈরী অবস্থানের কারণে ইউরোপীয় কোনো দেশকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়নি তেহরান, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের রাজনৈতিক অবস্থানের এক স্পষ্ট বার্তা।

প্রশাসন ধারণা করছে খামেনির এই জানাজায় এক কোটির বেশি মানুষ অংশ নেবে। তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র কোমে নেওয়া হবে, যেখানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
 
এরপর ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালা হয়ে খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে। শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের মাজার খ্যাত এই মাশহাদ শহরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি, যেখানে আরও প্রায় ৪০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে ইরান কর্তৃপক্ষ।
 
৩৭ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে খামেনির এই প্রস্থানকে ইরানি জনগণ তাদের গৌরব ও সাহসের প্রতীকের চিরবিদায় হিসেবে দেখছেন।

 

Share: