ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত সামরিক স্থাপনা ‘ফোর্ট তিউনা’ থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। জানা গেছে, ঘাঁটির ভেতরের বাসভবন থেকেই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটকের পর মাদুরোকে দ্রুত একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারে করে কারাকাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ‘আইও জিমা’-তে তোলা হয়। সেখানকার একটি ছবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তী ধাপে কিউবা হয়ে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ডিইএ)-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। বিবিসি ও আলজাজিরাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডিইএ কর্মকর্তাদের পাহারায় মাদুরো সংস্থাটির দপ্তরের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। পরে তাকে ম্যানহাটনের ডিইএ অফিস থেকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।
ভেনেজুয়েলার এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) তাকে আদালতে তোলা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোকে ‘মাদক চক্রের শীর্ষ ব্যক্তি’ হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছে। যদিও তিনি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযানের পরপরই নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।