Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / আন্তর্জাতিক / মায়ের পরিচয় নিয়ে কেন মুখ খোলেন না কিম জং উন - chief tv

মায়ের পরিচয় নিয়ে কেন মুখ খোলেন না কিম জং উন - chief tv

2026-06-29  ডেস্ক রিপোর্ট  28 views
মায়ের পরিচয় নিয়ে কেন মুখ খোলেন না কিম জং উন - chief tv

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের জীবনের বহু দিকই রহস্যে ঘেরা। তবে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি হলো তার মায়ের পরিচয়। টানা ১৫ বছরের শাসনামলেও কিম কখনো প্রকাশ্যে নিজের মায়ের নাম উল্লেখ করেননি, যা আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থার বৈধতা মূলত ‘মাউন্ট পেকতু’ বংশধারার ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দেশটির প্রচারিত ইতিহাস অনুযায়ী, এই বংশধারা কোরিয়ান জাতির পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা দানগুন এবং কিম ইল সুং ও কিম জং ইলের মতো নেতাদের সঙ্গে যুক্ত। এই বংশগত ধারাকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ও অপরিবর্তনীয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘পেকতু বংশধারা’র গল্প শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং শাসন বৈধতার মূল ভিত্তি। কিন্তু কিম জং উনের মায়ের প্রকৃত পরিচয় যদি প্রকাশ পায়, তাহলে এই কাঠামো মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।

বিভিন্ন গবেষণা ও নির্বাসিত কূটনীতিকদের তথ্য অনুযায়ী, কিম জং উনের মা কো ইয়ং হুই উত্তর কোরিয়ার অভিজাত বংশ থেকে আসেননি, বরং তার জন্ম জাপানের ওসাকা শহরে। ধারণা করা হয়, তিনি ছিলেন জাইনিচি কোরিয়ান সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা জাপানে বসবাসকারী কোরিয়ান বংশোদ্ভূত মানুষ।

জীবনীকারদের তথ্য বলছে, কো ইয়ং হুইয়ের পরিবার পরে একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যায়। সেখানে তিনি সাংস্কৃতিক দলে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে কিম জং ইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফার্স্ট লেডি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম জং ইলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং পরবর্তী পারিবারিক ইতিহাসই কিম জং উনের রাজনৈতিক উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তার দুই বড় ভাই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে বাদ পড়ার পর কো ইয়ং হুইয়ের প্রভাবেই কিম জং উনকে উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনা হয় বলে ধারণা করা হয়।

২০১১ সালে কিম জং ইলের মৃত্যুর পর মাত্র ২৭ বছর বয়সে কিম জং উন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং বোন কিম ইয়ো জংসহ ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উনের ব্যক্তিগত জীবনের এই গোপনীয়তা তার রাজনৈতিক বৈধতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই তার মায়ের পরিচয় নিয়ে যেকোনো বিতর্ক উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থার ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিতে পারে।

নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিউন উ মন্তব্য করেছেন, কিম জং উনের মায়ের পরিচয় যদি সত্যিই জাপান-সম্পর্কিত বলে প্রমাণিত হয়, তবে তা শুধু তার নেতৃত্ব নয়, পুরো উত্তর কোরিয়ার বংশানুক্রমিক ক্ষমতা কাঠামোকেই গভীর সংকটে ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে কিম জং উনের মায়ের রহস্য আজও শুধু পারিবারিক ইতিহাস নয়, বরং উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক বৈধতার সবচেয়ে স্পর্শকাতর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


Share: