Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / জাতীয় / মে মাসে সড়কে নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২: প্রতিবেদন : যাত্রী কল্যাণ সমিতি - Chief TV

মে মাসে সড়কে নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২: প্রতিবেদন : যাত্রী কল্যাণ সমিতি - Chief TV

2026-06-13  ডেস্ক রিপোর্ট  38 views
মে মাসে সড়কে নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২: প্রতিবেদন : যাত্রী কল্যাণ সমিতি - Chief TV
দেশে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র দিন দিন আরও বেশি ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে। বিদায়ী মে মাসেই সারা দেশে মোট ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ হাজার ৬৫২ জন।
 
একই সময়ে রেল ও নৌপথও ছিল রক্তাক্ত; রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন এবং নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে গত মাসে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় সর্বমোট ৬৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
 
শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল থেকে পাঠানো এবং সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বার্ষিক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
 
দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হলেও সংগঠনটির দাবি, সংবাদমাধ্যমের আড়ালে থাকা বহু দুর্ঘটনার তথ্য এখানে যুক্ত করা যায়নি, যার ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের মোট দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেলের অবদানই সবচেয়ে বেশি ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
 
ভৌগোলিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন মারা গেছেন।
 
এর বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। নিহতদের পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাণ হারানোদের মধ্যে চালক, পথচারী ও পরিবহন শ্রমিকদের পাশাপাশি ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৯৩ জন নারী এবং ৬৮ জন শিশু রয়েছে, যা দেশের মানবসম্পদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের তালিকায় মোটরসাইকেলের পরেই রয়েছে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, বাস এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে সড়কে এই মৃত্যুর মিছিলের পেছনে একগুচ্ছ বড় কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মহাসড়কে ধীরগতির থ্রি-হুইলার ও মোটরবাইকের অবাধ চলাচল, পর্যাপ্ত রোড সাইন ও সড়কবাতির অভাব, বেপরোয়া গতি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দাপট।
 
এছাড়া সড়ক ও মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, চাঁদাবাজি এবং বৃষ্টির কারণে সড়কে তৈরি হওয়া খানাখন্দকে দায়ী করা হয়েছে।
 
পরিবহন খাতের এই নৈরাজ্য থেকে মুক্তি পেতে এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে উন্নত বিশ্বের আদলে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা চালু এবং চালকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
 
একই সাথে বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফুটপাত ও নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা এবং পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

Share: