Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / আন্তর্জাতিক / মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে কূটনৈতিক উত্তেজনা - Chief TV

মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে কূটনৈতিক উত্তেজনা - Chief TV

2026-06-20  ডেস্ক রিপোর্ট  27 views
মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে কূটনৈতিক উত্তেজনা - Chief TV

একটি ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মেলোনি অনুরোধ করেছিলেন। তবে এই মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে দুই নেতাকে বেশ ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ করতে দেখা যায়। সম্মেলনের পর ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন এবং তিনি অনুরোধটি রেখেছিলেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, সম্ভবত তার সঙ্গে কথা বলতে পেরে মেলোনি সন্তুষ্ট ছিলেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে তিনি বিস্মিত। মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কেন করা হচ্ছে, তা তার বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেলোনি আরও বলেন, ইতালি কখনো কারও কাছে অনুনয়-বিনয় করে না এবং জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় মিত্রদের প্রতিই ট্রাম্প বেশি কঠোর আচরণ করছেন।

ঘটনাটি ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাট্টারেল্লা ব্যক্তিগতভাবে মেলোনির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিরোধী ও সরকারি জোটের নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং ট্রাম্পের মন্তব্যকে অসম্মানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে পরিস্থিতির প্রতিবাদে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও মেলোনির এই বিরোধ হঠাৎ তৈরি হয়নি। ইরান ইস্যুতে দুই নেতার অবস্থানের পার্থক্য এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতবিরোধের জেরেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে বিবেচিত মেলোনি এখন মার্কিন প্রশাসনের কিছু নীতির প্রকাশ্য সমালোচক হয়ে উঠেছেন।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই ঘটনা শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দূরত্বেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের অবস্থান ক্রমেই ভিন্নমুখী হয়ে উঠছে।


Share: