গাজায় ইসরাইলের সঙ্গে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের মৃত্যু থামেনি। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হচ্ছে, যা এই যুদ্ধবিরতিকে কার্যত ‘নিষ্ঠুর ও মারাত্মক বিভ্রমে’ পরিণত করেছে।
শুক্রবার ইউনিসেফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছে চার শতাধিক শিশু, যাদের অনেকেই গুরুতর আঘাত নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রতিদিন একটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তার ভাষায়, এই ধারাবাহিক মৃত্যু প্রমাণ করে যে যুদ্ধবিরতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব যখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত, তখন গাজার পরিবারগুলো এখনও তাদের সন্তানদের কবর দিচ্ছে। বাড়ি, স্কুল, জনবহুল এলাকা এমনকি খেলাধুলা বা মাছ ধরার সময়ও শিশুরা হামলার শিকার হচ্ছে।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহেই দুই বছর বয়সী এক শিশু এবং ১৩ বছর বয়সী আরেক কিশোর ইসরাইলি গুলিতে নিহত হয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুও তার বাবার সঙ্গে হামলায় প্রাণ হারিয়েছে।
জেমস এল্ডার অভিযোগ করেন, ইসরাইল ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’ ও ‘অরেঞ্জ লাইন’ সীমান্ত অঞ্চল ক্রমাগত সম্প্রসারণ করায় সাধারণ মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামান্য নড়াচড়াও প্রাণঘাতী হতে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, গাজার শত শত শিশুর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এতে সংক্রমণ, জটিলতা এবং অঙ্গচ্ছেদের আশঙ্কা বাড়ছে।
ইউনিসেফের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা গাজার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। ভয়, মৃত্যু ও অনিশ্চয়তা এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেমস এল্ডার বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়েও যদি শিশুদের মৃত্যু অব্যাহত থাকে, তাহলে সেই যুদ্ধবিরতির কোনো অর্থ থাকে না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।