রাজধানীর গুলশানের নর্দার মোড়ল বাজার এলাকায় চুরির অভিযোগ তুলে এক নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শীতের সকালে পানি ঢেলে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শীতের পোশাক পরা এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুজন ব্যক্তি ছোট বালতি ও মগ দিয়ে তার শরীরে বারবার পানি ঢালছেন। নারীর মুখভঙ্গি ও আচরণে স্পষ্ট, ঠাণ্ডা পানির কারণে তিনি তীব্র কষ্ট পাচ্ছেন। অথচ নির্যাতনে জড়িতরা হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় ছিলেন এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন মানুষ ঘটনাটি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। কেউ কেউ এ কাজে উৎসাহ দিচ্ছিলেন, আর একজন পুরো দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলেন।
ভিডিওটি শনিবার পুলিশের নজরে আসে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান জানান, ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনিবার রাতেই পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত মারকাযুত তা’লীম আল-ইসলামী মাদ্রাসায়ও যায়। তবে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার ওই নারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং এ ঘটনায় তখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ভুক্তভোগীকে খুঁজে বের করতে পুলিশের একটি দল কাজ করছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে অনেকেই অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রোববার রাত আটটার দিকে গুলশান থানা পুলিশ জানায়, আটক পাঁচজনকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মাদ্রাসার দুই শিক্ষক লোকমান ও একরাম এবং তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে ওই নারী লোকমান নামের এক শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে সেখানে ঝুলিয়ে রাখা একটি পাঞ্জাবির পকেটে হাত দেন। বিষয়টি দুই শিশু শিক্ষার্থী দেখে চিৎকার করলে একরাম নামের আরেক শিক্ষক এসে ওই নারীকে আটক করেন। তারা প্রথমে পুলিশে দেওয়ার কথা ভাবলেও ভোরের সময় পুলিশ পাওয়া কঠিন হবে—এই যুক্তিতে নিজেরাই ‘শাস্তি’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই নারীকে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়। পরে কয়েকজন তাকে উত্তরাগামী একটি বাসে তুলে দেন।
ঘটনাটি যারা দেখছিলেন, তাদের মধ্য থেকে কেউ একজন ভিডিওটি ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। সেই ভিডিও দেখে পুলিশ পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে। তবে এলাকার কেউ ওই নারীকে চিনতে পারেননি। তিনি স্থানীয় নন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যে কক্ষ থেকে ওই নারীকে আটক করা হয়েছিল, সেটি মাদ্রাসা ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত। ওই নারী কীভাবে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট নয়।