Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / ময়মনসিংহ বিভাগ / সারাদেশ / নেত্রকোনা / পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের কষ্টের ফসল - Chief TV

পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের কষ্টের ফসল - Chief TV

2026-04-30  ডেস্ক রিপোর্ট  27 views
পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের কষ্টের ফসল - Chief TV

নেত্রকোনার মদনে গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মগড়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে হাওড়ের অনেক জমির পাকা ধান। এ নিয়ে হাওড়াঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার খয়রার হাওড়, গনেশের হাওড়, তলার হাওড়, জালিয়ার হাওড়, হাতির হাওড়, তিয়শ্রীর সামনের হাওড়সহ বিভিন্ন হাওড়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব হাওড়ে পানি প্রবেশ করে বোরো ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া অনেক জমির পাকা ধান ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। এসব হাওড়ের জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য নির্বাক হয়ে দেখছেন কৃষক। অনেকে শ্রমিক না পেয়ে নিজেরা ধান কাটছেন। এমন কি স্কুল পড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে ডুবে যাওয়া ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

কষ্ট করে ধান সংগ্রহ করলেও গবাদি পশুর খাদ্য খড় জমিতে পড়েই পানির নিচে নষ্ট হচ্ছে। কৃষকরা তাদের সারা বছরের খাদ্য ঘরে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঘর থেকে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার উন্নতি ঘটলেও শ্রমিক সংকটের কারণে এসব কাজে বিঘ্ন ঘটছে।

আবার অনেক কৃষক ও কৃষাণীরা নৌকায় ও সাঁতারিয়ে, কোমর সমান পানিতে নেমে ধানকাটার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা ধান কেটে ও মাড়াই করে ধান সংগ্রহ করেছেন রোদ না থাকায় এসব ধানে চারা গজাচ্ছে। গত কয়েক দিনে লাগাতার বৃষ্টিতে কয়েকশ হেক্টর বোরো জমি তলিয়ে গেছে। একদিকে শ্রমিক ও তেল সংকট, অন্যদিকে বৃষ্টি। অপরদিকে, জমিতে পানি ও কাদার জন্য ধান কাটার মেশিন (হারভেস্টার) জমিতে নামাতে পারছে না।

তলার হাওড়ের কৃষক সফিয়ন, শিপন গণমাধ্যমকে জানান, তলার হাওড়ে আমি ৫ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করি। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে জমিতে প্রবেশ করায় আমরা পাকা ও অর্ধপাকা কিছু ধান সংগ্রহ করেছি। গরুর খাদ্য খড় পানিতেই নষ্ট হচ্ছে। আমাদের মতো অনেক কৃষক এই অবস্থায় পড়েছে। এ বছর গবাদি পশুর খাদ্য তীব্র সংকট দেখা দেবে।

চানগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, এ বছর ফসলের বাম্পার ফলন দেখে আমাদের মনে খুবই আনন্দ জেগে ছিলো। হঠাৎ বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের স্বপ্ন বোরো ধান ঘরে তুলতে বিশাল বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। আমাদের দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত খোঁজ খবর ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিজান গণমাধ্যমকে জানান, এ বছর বোরো ফসল ভালো হয়েছিলো। তবে কয়েকদিনে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার পৌরসভাসহ আট ইউনিয়নে অন্তত ছয়শত পঁচিশ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। আরও বহু জমিতে পানি প্রবেশ করার সংবাদ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে বেশ কয়েকটি হাওড় পরিদর্শন করেছি। এতে কৃষকদের বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য চোখে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা সরেজমিনে তৈরি করার জন্য কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে।  অচিরেই সরকার কতৃক ঘোষিত সম্ভাব্য সব ধরণের সহযোগিতা তাদের দেওয়া হবে। 


Share: