পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়নের জগদল উত্তর গোয়ালপাড়া গ্রামে পাগলা শিয়ালের হামলায় শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) সকাল ও বিকেলে পৃথক সময়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের ধাওয়া ও প্রতিরোধের মুখে একটি শিয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও অপরটি পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে জগদল উত্তর গোয়ালপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল পাঁচ বছর বয়সী শিশু জুই আক্তার। এ সময় হঠাৎ একটি শিয়াল শিশুটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে পাশের চা-বাগানের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে জগদল উত্তর গোয়ালপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল পাঁচ বছর বয়সী শিশু জুই আক্তার। এ সময় হঠাৎ একটি শিয়াল শিশুটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে পাশের চা-বাগানের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে।
শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এতে শিশুটি আহত হয়।
এরপর বিকেলে একই এলাকায় আবারও শিয়ালের হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইসমাইল হোসেন (৪০), বেলাল হোসেন (৪৫), মফিজ উদ্দিন (৫২) ও আব্দুর রাজ্জাক (৫০) আহত হন। স্থানীয়রা জানান, শিয়ালগুলো অস্বাভাবিক আচরণ করছিল এবং মানুষের ওপর বারবার আক্রমণ চালাচ্ছিল। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে একটি শিয়ালকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করেন। তবে অপর শিয়ালটি পাশের ঝোপঝাড় ও চা-বাগান এলাকায় পালিয়ে যায়। ফলে গ্রামবাসীর মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মোখলেছুর রহমান জানান, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে দুজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “বন্য প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের ঘটনায় দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা পালিয়ে যাওয়া শিয়ালটিকে দ্রুত শনাক্ত ও আটক করার পাশাপাশি বন বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।