রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি,যাত্রীদরে অভিযোগ ও পরার্মশ সরাসরি শোনার লক্ষ্যে ও জরুরিভাবে জনমুখি উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য শুক্রবার দুপুরে রেলওয়ে পাকশী বিভাগের পারবর্তীপুর রেল স্টেশন প্লাট ফরমে জনমুখি গণশুনাণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। পারবর্তর্তীপুরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত রেলওয়ের পাকশী বিভাগের পক্ষ থেকে চতুর্থতম এই গণশুনানীর আয়োজন করা হয় । রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মীর লিয়াকত শরীফ খান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন,বিনা টিকিটে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনের ছাদে,বাফারে ও গার্ড ব্রেকে না উঠার পরামর্শ দিয়ে গণশুনানীর স্টেশন ও ট্রেনে ধুমপান নিষিদ্ধ,যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলানো বন্ধ করা হয়েছে এবং দূর্ঘটনা এড়াতে ও ছিনতাই থেকে রক্ষা পেতে চলন্ত ট্রেনে মোবাইলে ছবি বা ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকা প্রতিটি সচেতন ট্রেন যাত্রীর নাগরিক দায়িত্ব । পারবর্তীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাষ্টার রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে নিরপত্তাবাহিনীর সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, স্টেশনের,স্টেশন ঘিরে রাস্তার উন্নয়ন,ফুট ওভারব্রীজ নির্মাণ, ক্যারেজ,প্লাটফরম শেড নির্মাণ ও লোকোসেডের সার্বিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে গণশুনানী পর্বে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মধ্য থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়। এদর মধ্যে রেলওয়ে নিরপত্তাবাহিনীর সিআই হাসান সিহাবুল,যাত্রী রহমত ও কলিমুল্লাহ উল্লেখযোগ্য বক্তব্য দেন।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে দফতর কর্তৃক আয়োজিত এই উন্মুক্ত গণশুনানিতে উঠে আসা প্রধান সমস্যাসমূহ তুলে ধরে বক্তব্য দের বক্তারা। তারা বলেন,যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি করতে সাধারণ যাত্রীরা যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তাদের সমস্যার কথা রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে পারেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধান পান, সেই লক্ষ্য নিয়েই রেল কর্তৃপক্ষকে কাজ করতে হবে। টিকিট কালোবাজারি, ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বা বগির পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখতে হবে। রেলের উন্নয়নে নাগরিকদের সৃজনশীল পরামর্শ গ্রহণ করে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতি মাসে বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই ধরণের আয়োজন আবশ্যকীয়। এ ছাড়াও বানিজ্য সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহন এবং পণ্য খালাসে পরিবেশ উন্নত করতে হবে। বক্তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ শোনার পর তা সমাধানে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মীর লিয়াকত শরীফ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেন। যেমন,কালোবাজারি রুখতে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ। প্রতিটি স্টেশনে প্রতিদিনের কাজের রিপোর্ট ছবিসহ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা। খাবারের দাম বেশি রাখলে ক্যাটারিং ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি। রেলওয়ে পুলিশ ও আরএনবি-কে বগির ভেতরে নিয়মিত টহল দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এর আগে পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে ঈশ্বরদী স্টেশনে ও রাজশাহী স্টেশনে এবং পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর নিকট(প্রতিমন্ত্রী সমমর্যাদা সম্পন্ন) সর্বপ্রথম ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না দেশের চাহিদা মত ইঞ্জিন ও কোচ আমদানি করা, ঈশ্বরদীকে দুইভাগে বিভক্তকারী রেলগেটে টানেল নির্মাণ করা, ঈশ্বরদী জংসন স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনবৃদ্ধি, পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি পাবনা, ঈশ্বরদী, ঢাকার মধ্যে চালু করা, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই ভুক্ত জাতীয় সম্পদ হার্ডিঞ্জ ব্রীজের ফেন্সিং নির্মাণ,ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনকে আধুনিকায়ন করা,ঈশ্বরদী থেকে পাকশী ও পাকশী কবরস্থান থেকে রেলওয়ে অফিসে প্রবেশের রাস্তা মেরামত করা,রাজশাহী-খুলনা,ঈশ্বরদী-ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন চালু, ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে বুড়িমারী ও পঞ্চগড়সহ ছয়টি ট্রেনের স্টাপেজের দাবিসহ ১৮ টি দাবি জরুরিভাবে বাস্তবায়নের জন্য রেলপথ মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা বরাবর পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেন। জনপ্রতিনিধি না হয়েও জনস্বার্থে এধরনের স্মারক লিপি প্রদান করায় ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্নাসহ নেতৃবৃন্দকে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান।