শাবান ও রমজান—উভয় মাসই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময়। রাসুলুল্লাহ ﷺ রমজান ছাড়া সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন শাবান মাসে। হাদিসে এসেছে, শাবান এমন এক মাস—যে মাসে বান্দার সারা বছরের আমল আল্লাহ তাআলার দরবারে পেশ করা হয়। তাই নবীজি ﷺ চাইতেন, রোজাদার অবস্থায় তাঁর আমল পেশ হোক।
এই মাসটি রজব ও রমজানের মাঝখানে হওয়ায় অনেকেই এর গুরুত্ব ভুলে যান। অথচ শাবান মাস আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের বড় সুযোগ।
শাবান মাসে আমল
শাবান মাসে বেশি বেশি নেক আমল করা উচিত—
▪ নফল রোজা
▪ কুরআন তিলাওয়াত
▪ দরুদ শরিফ
▪ তাওবা ও ইস্তিগফার
▪ ফরজ নামাজ যথাযথভাবে আদায়
তবে রমজানের এক–দুই দিন আগে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান (শবে বরাত)
শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে শবে বরাত বলা হয়। সহিহ ও হাসান পর্যায়ের হাদিসে এসেছে—এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমা করে দেন সকলকে, শিরককারী ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া।
এ রাতে করণীয় হলো—
✔ নফল নামাজ
✔ দোয়া ও ইস্তিগফার
✔ কুরআন তিলাওয়াত
✔ আত্মশুদ্ধি ও তাওবা
সব আমল ব্যক্তিগতভাবে করা উত্তম। নির্দিষ্ট রাকাত বা বিশেষ সূরার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
বর্জনীয় কাজ
শবে বরাতে যেসব কাজ পরিহার করা জরুরি—
✘ আতশবাজি ও পটকা
✘ আলোকসজ্জা
✘ কবর বা মাজারে ভিড়
✘ মাইক ব্যবহার করে সারারাত ওয়াজ
✘ দলবদ্ধ বিশেষ ইবাদত
✘ অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা ও হৈ-হুল্লোড়
এসব ইসলামের শিক্ষা নয়।
শাবান মাসের ১৫ তারিখের রোজা
প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ (আইয়ামে বীয) রোজা রাখা সুন্নত। সে হিসেবে শাবানের ১৫ তারিখে রোজা রাখা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।
তবে শুধুমাত্র “শবে বরাতের পরদিন” হিসেবে ১৫ শাবানের রোজাকে আলাদা সুন্নত মনে করার নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। তিন দিন একসঙ্গে রোজা রাখাই উত্তম।
উপসংহার
শাবান মাস আমাদের আত্মশুদ্ধি ও রমজানের প্রস্তুতির মাস। এ মাসে গুনাহ বর্জন, অন্তর পরিষ্কার রাখা এবং বেশি বেশি নেক আমলে মনোযোগী হওয়াই প্রকৃত সফলতা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শাবান মাস ও শবে বরাতের বরকত হাসিল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।