Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / জাতীয় / সীমান্তে বেপরোয়া বিএসএফ - Chief TV

সীমান্তে বেপরোয়া বিএসএফ - Chief TV

2026-01-07  ডেস্ক রিপোর্ট  129 views
সীমান্তে বেপরোয়া বিএসএফ - Chief TV

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারায় ১৫ বছরের ফেলানী। হত্যার পর সাড়ে চার ঘণ্টা তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। তবে এত বছর পার হলেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও নিশ্চিত হয়নি। একই সঙ্গে সীমান্তে বিএসএফের গুলি, নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ হয়নি।

ফেলানী হত্যার বার্ষিকীর দিনেই নতুন করে সীমান্ত সহিংসতার ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে রনি মিয়া নামে এক বাংলাদেশি যুবক আহত হন। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা হারুন অর রশিদের ছেলে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় গেলে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে রনি মিয়া আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে সীমান্ত এলাকার মানুষকে বিরত থাকতে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।

এর আগে ৪ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোহরপুর–টেক সীমান্তের ওপারে বিএসএফের হাতে আটক হন রবিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি যুবক। আটক হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। পরে বিএসএফ মরদেহ হস্তান্তর করে দাবি করে, অসুস্থতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তে রবিউলের শরীরের বুক, হাত-পা ও গালে অন্তত ছয়টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানান, আঘাতগুলো লাঠিজনিত নয়, তবে এসব আঘাতই মৃত্যুর কারণ কি না—তা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর বলা যাবে। বিজিবি জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিএসএফ ও ভারতের নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশি নিহতের সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন—এর মধ্যে ২৪ জন গুলিতে এবং ১০ জন নির্যাতনের ফলে মারা যান। আগের বছরগুলোতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২০২৪ সালে ৩০ জন, ২০২৩ সালে ৩১ জন, ২০২২ সালে ২৩ জন এবং ২০২১ সালে ১৮ জন। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ভারতের প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন এখনও দেখা যায়নি।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন খাইরুল ইসলাম (৩০) ও মো. মমিন আলী (২৫)। বিজিবি জানায়, গরু চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রমের সময় বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের ধাওয়ার মুখে তারা আটক হন।

অন্যদিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে গত এক দশকে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন মারধরের ঘটনায়। ৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তের একটি বড় অংশ এখনও কাঁটাতারের বাইরে থাকায় ঝুঁকি রয়ে গেছে।

বিজিবি জানায়, সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত পতাকা বৈঠকে সীমান্ত হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিএসএফের আক্রমণাত্মক আচরণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর পরও সীমান্তে বাংলাদেশিদের প্রাণহানি অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—সীমান্তে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার আদৌ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে।


Share:

ট্যাগস: chief tv chief tv news জাতীয়