সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বর্ষার আগমনে প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে। টানা বৃষ্টির পর সবুজ পাতার আড়াল ভেদ করে ফুটে উঠেছে গোলাকার হলুদ কদম ফুল। তাড়াশ পৌর সদরের মাছ বাজার এলাকায় কদম গাছে ফুটে থাকা ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে।
বর্ষার দূত হিসেবে পরিচিত এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কদম গাছের নিচে ব্যাবসায়ী সুজন বলেন, “বর্ষা এলেই কদম ফুল ফুটে চারপাশের পরিবেশ বদলে যায়। ফুলের সৌন্দর্য দেখতে অনেকেই এখানে এসে চা খেতে বসেন এবং প্রকৃতির এই রূপ উপভোগ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আমানত বলেন, “কদম ফুল আমার খুব প্রিয়। আমার দোকানের সাথেই কদম গাছ চা খেতে খেতে কদম ফুলের সৌন্দর্য ও ঘ্রাণ উপভোগ করি।”
শুধু পৌর সদর নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতভিটার আঙিনা ও খোলা প্রান্তরেও ফুটে থাকা কদম ফুল এখন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। কেউ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে তুলছেন ছবি।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও কদম ফুলের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কবিতা, গান ও চিত্রকলায় বর্ষার প্রতীক হিসেবে বারবার উঠে এসেছে এই ফুল। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন—
“বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান।
উদ্ভিদ সংশ্লিষ্টদের মতে, কদম মূলত বর্ষাকালের ফুল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও আর্দ্র পরিবেশে এ ফুল ভালোভাবে ফোটে। বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠা এই গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একসময় গ্রামবাংলার সর্বত্র কদম গাছের দেখা মিললেও নগরায়ণের প্রভাবে বর্তমানে এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তবে বর্ষা এলেই কদম তার চিরচেনা রূপ নিয়ে প্রকৃতিতে জানান দেয় নিজের উপস্থিতি।
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, কদম শুধু একটি ফুল নয়, এটি বাংলার বর্ষা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কদম গাছ সংরক্ষণ ও বেশি বেশি রোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।