সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি যুবক ডিপজল আহমদের তিন দিন পার হলেও এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও নিখোঁজ যুবকের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ডিপজল আহমদ কয়েকজনের সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার সময় বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়ার মুখে অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে এলেও ডিপজল আর ফিরে আসেননি।
ডিপজলের সঙ্গে থাকা কয়েকজন দাবি করেছেন, বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয়রা ভারতের এক নাগরিককে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। পরে বিজিবির মাধ্যমে তাকে বিএসএফের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও নিখোঁজ যুবকের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার জানিয়েছেন, ডিপজলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে কোনো গুলির ঘটনা কিংবা ডিপজলের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিএসএফ প্রথমদিকে লাশ হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, নিখোঁজ যুবকের কোনো তথ্য না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, একজন বাংলাদেশি যুবক গুলিতে নিহত হয়েছেন—এমন দাবি স্থানীয়দের কাছ থেকে শোনা গেলেও এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
নিখোঁজ ডিপজল আহমদের সন্ধানে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগের পাশাপাশি নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।