ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫ জন প্রার্থী আপিল করেন। এ শুনানি শেষে ৪২২ জন প্রার্থী আবারো ভোটের মাঠে ফিরেছেন। বিপরীতে ২১২ জনের প্রার্থিতা আপিলে ফিরেনি; তবে তারা চাইলে উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন। আপিল শুনানি শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,২৬৭ জন, যার ফলে প্রতি আসনে গড়ে ৭.৫৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন।
সর্বশেষ আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয় রবিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে। শেষ দিনে মোট ৬৫টি আপিল শুনানি হয়, যার মধ্যে ২৩টি মঞ্জুর, ৩৯টি নামঞ্জুর এবং ৩টি অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
বিভিন্ন দলের ক্ষেত্রে notable সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে:
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনের আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা দ্বৈত নাগরিকত্ব অভিযোগে বাতিল করা হয়েছিল, তবে আপিলে পুনর্বহাল।
চট্টগ্রাম-২ ও কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল।
জামায়াতের চট্টগ্রাম-৯ আসনের এক প্রার্থীও আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাননি।
জাতীয় পার্টির (জাপা) ৪২ জন প্রার্থী আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
খাগড়াছড়ি আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা প্রার্থিতা বিশেষ বিবেচনায় বৈধ ঘোষণা।
এই আপিল প্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন, এবং পরদিন চূড়ান্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে।
প্রার্থী তালিকার হিসাব অনুযায়ী, মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৫৬৮ জন। এর মধ্যে:
বিএনপি: ২৮৫ জন
জামায়াত: ১৭৯ জন
এনসিপি: ৩০ জন
জাপা: ২০৩ জন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ২৬৮ জন
সিপিবি নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট: ১৫২ জন
অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী: বিভিন্ন
এছাড়া নির্বাচনে আপিল ও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল বা বৈধ ঘোষণা হয়েছে, যেমন: বগুড়া-২ আসনের নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, কক্সবাজার-২ এর জামায়াত প্রার্থী এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এবং ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা।