মুন্সীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনটি হত্যা মামলাসহ মোট সাত মামলার আসামি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা সাজ্জাত হোসেন সাগরের (৩৫) ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-১ এর বিচারক মো. আশীকুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে হাজিরা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি
আসামি সাজ্জাত হোসেন সাগর মুন্সীগঞ্জ শহর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।
দুপুর ২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। সেনা সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আদালত প্রাঙ্গণে মোতায়েন ছিলেন।
এর আগে দুপুর ১টা থেকেই আদালত এলাকায় জড়ো হতে থাকেন ছাত্র-জনতা। তারা স্লোগান দিতে থাকেন— “সাগরের ফাঁসি চাই”। বিক্ষোভকারীরা সাগরকে বহন করা প্রিজনভ্যানে ডিম ছোড়েন; এমনকি এক নারীকে ঝাড়ু দিয়ে প্রিজনভ্যান পেটাতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা সদস্যরা কিছু বিক্ষোভকারীর ওপর লাঠিপেটা করেন।
পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাগরকে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-১ এ তোলা হয়।
শুনানি ও রিমান্ড
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ সজল হত্যা মামলা’র শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট হালিম হোসেন। শুনানি শেষে বিচারক ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার গভীর রাতে ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে তাকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পালিয়ে থাকা ও গ্রেপ্তারের পটভূমি
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যান সাগর। ভিসাজনিত জটিলতায় সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম জানান, সাগরের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফিরোজ কবীর বলেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাগর বাংলাদেশ ছেড়ে পালান। পরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানকালে আটক হয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাকে। গোপনে ঢাকায় বসবাস শুরু করার পর গোয়েন্দা পুলিশ গত এক মাস ধরে তাকে অনুসরণ করে এবং অবশেষে গ্রেপ্তার করে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য
পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হালিম হোসেন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মুন্সীগঞ্জে গুলিতে নিহত হন সজল মোল্লা। তদন্তে জানা গেছে, সজলকে গুলি করেছিলেন সাগর। পুলিশের দাখিল করা ছবি ও ভিডিও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জে কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা সমাবেশ করেন। এ সময় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন উত্তর ইসলামপুরের সজল মোল্লা, রিয়াজুল ফরাজী ও ডিপজল। আহত হন শতাধিক মানুষ। এসব ঘটনায় তিনটি হত্যা মামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ একাধিক মামলায় আসামি করা হয় সাজ্জাত হোসেন সাগরকে।