বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস—এই চার রাজনৈতিক দলের শীর্ষ চার নেতা ঢাকার চারটি পৃথক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব আসনে ভোটারদের মতামত জানতে জরিপ চালিয়েছে ‘সোচ্চার–টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’ নামের একটি গবেষণা সংস্থা।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিডিবিএল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক শিব্বির আহমদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ফাহিম মাশরুর।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী আসনে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতা তার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় পিছিয়ে আছেন।
🔹 ঢাকা–১৭ আসন: তারেক রহমান এগিয়ে
ঢাকা–১৭ আসনে ৫১৫ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত জরিপে ৪৬.৪ শতাংশ মনে করছেন বিএনপির চেয়্যারম্যান তারেক রহমান বিজয়ী হতে পারেন। জামায়াতের প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামানকে সম্ভাব্য বিজয়ী মনে করেছেন ২৭.৪ শতাংশ ভোটার।
আজ নির্বাচন হলে কাকে ভোট দেবেন—এ প্রশ্নে ৩৫ শতাংশ তারেক রহমান এবং ৩২ শতাংশ খালিদুজ্জামানের পক্ষে মত দিয়েছেন।
🔹 ঢাকা–১৫ আসন: শফিকুর রহমানের অবস্থান শক্ত
৫১৪ জন ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত জরিপে ৪৯.২ শতাংশ ভোটার মনে করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জয়ী হতে পারেন। বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খানকে সম্ভাব্য বিজয়ী মনে করেছেন ৩২.৫ শতাংশ।
ভোট দেওয়ার প্রশ্নে শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৩৯.৫ শতাংশ এবং শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৩০ শতাংশ সমর্থন।
🔹 ঢাকা–১১ আসন: নাহিদ ইসলাম এগিয়ে
৬০৬ জন ভোটারের ওপর করা জরিপে দেখা যায়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে সম্ভাব্য বিজয়ী মনে করছেন ৪৫.৭ শতাংশ ভোটার। বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪০.৬ শতাংশ।
🔹 ঢাকা–১৩ আসন: ববি হাজ্জাজ বনাম মামুনুল হক
ঢাকা–১৩ আসনে ৬০৬ জন ভোটারের মতামতে ৪২.৬ শতাংশ মনে করছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ জয়ী হতে পারেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকের পক্ষে সম্ভাবনার কথা বলেছেন ৩৯.৬ শতাংশ ভোটার।
👑 প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা
জরিপে অংশ নেওয়া দুই হাজারের বেশি ভোটারের কাছে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ৪২.১ শতাংশ তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেন। আর ৩৪.৯ শতাংশ ভোটার জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য বলে মত দেন।
🗳️ ভোটার উপস্থিতি ও বয়সভিত্তিক প্রবণতা
জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ৯১.১ শতাংশ ভোটার। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৫ বছরের কম বয়সী ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারদের মধ্যে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের সঙ্গে ভোটের ব্যবধান খুব বেশি নয়।
📌 জরিপ পদ্ধতি
সংস্থাটি জানায়, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিনে ঢাকার চারটি আসনে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে মোট ২ হাজার ২৪১ জন ভোটারের মতামত সংগ্রহ করা হয়।