Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / আঞ্চলিক / দুই শিশুকে অপহরণের পর হত্যা- Chief TV

দুই শিশুকে অপহরণের পর হত্যা- Chief TV

2025-10-21  ডেস্ক রিপোর্ট  179 views
দুই শিশুকে অপহরণের পর হত্যা- Chief TV

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দুই শিশুকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন নারীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান গণি এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর মোশারফ হোসেন টিটু।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত তাই পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।”

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন:
গর্জনিয়া বড়বিল এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, আবদু শুক্কুর, আলমগীর হোসেন ওরফে বুলু, মিজানুর রহমান ও মো. শহীদুল্লাহ।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা:
আবদুল মজিদ বদাইয়া, ফাতেমা খাতুন, রাশেদা খাতুন ও লায়লা বেগম।

ঘটনার বিবরণ
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকেলে রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকায় দোকান কর্মচারী মোহাম্মদ ফোরকানের দুই ছেলে— হাসান শাকিল (১০) ও হোসেন কাজল (৮)—কে পাখির ছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত।

অপহরণের পর ওই রাতেই পরিবারের কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে পরিবার মুক্তিপণ না দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। দুই দিন পর, ১৯ জানুয়ারি রাতে স্থানীয় একটি খালের পাড় থেকে দুই শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে নিহতদের বাবা মোহাম্মদ ফোরকান বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে রামু থানায় মামলা করেন। প্রায় নয় বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ জানান, প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন— মুক্তিপণ না দেওয়ায় ক্ষোভে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়। প্রথমে এক বাড়িতে তাদের হত্যা করে মরদেহ ড্রামে ভরে রাখা হয়, পরে খালের পাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত দুই শিশুর বাবা মোহাম্মদ ফোরকান। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“আদালতের রায়ে আমি খুশি, কিন্তু আমার ছেলেরা তো আর ফিরে আসবে না। ওরা নৃশংসভাবে মেরে ফেলেছে আমার সন্তানদের।”

রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা পলাতক। মামলায় অভিযুক্ত মোকারমা সুলতানা পুতু নামে এক তরুণী বেকসুর খালাস পেয়েছেন।


Share: