Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / জাতীয় / বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল - Chief TV

বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল - Chief TV

2025-12-29  ডেস্ক রিপোর্ট  158 views
বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল - Chief TV

শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেনিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরেই বেগম খালেদা জিয়া বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা এবং আরও কয়েকটি জটিল রোগে ভুগছিলেন। তিনি মূলত আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন।

তার স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে ভর্তি করা হয়েছিলো। বোর্ডের চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন থেকে রাজনৈতিক উত্থান:

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী সরকার প্রধান। সামরিক শাসক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তার ব্যক্তিগত জীবন শুরু হলেও, পরবর্তীতে তিনি নিজেই হয়ে ওঠেন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী।

পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবন:

খালেদা জিয়া ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন দিনাজপুর জেলায় (বর্তমানে ঠাকুরগাঁও) জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল 'পুতুল'। তার পিতা এস্কান্দার মজুমদার এবং মাতা তৈয়বা মজুমদার। স্কুল জীবন শেষ করে তিনি ১৯৬৫ সালে জিয়াউর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন তরুণ অফিসার ছিলেন। তাদের দুই পুত্র - তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো (প্রয়াত)।

একজন সামরিক অফিসারের স্ত্রী হিসেবে খালেদাকে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে জীবন কাটাতে হয়েছে। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল অনেকটাই ঘরোয়া, যেখানে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সেভাবে ছিল না।

তবে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হলে তার জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। এই বিয়োগান্তক ঘটনাই তাকে রাজনীতির কঠিন পথে টেনে আনে।

রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও উত্থান:

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখন নেতৃত্ব সংকটে ভুগছিল, তখন ১৯৮২ সালে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন। দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধে ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাড়া দিয়ে খালেদা জিয়া ১৯৮৩ সালের প্রথম দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এবং পরবর্তীতে চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তার রাজনৈতিক জীবনের মূল ভিত্তি ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন ঘটানো। তিনি দুটি প্রধান বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেন এবং দীর্ঘ আট বছর ধরে এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন ঘটে এবং দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পথ সুগম হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বকাল:

প্রথম মেয়াদ (১৯৯১-১৯৯৬): ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসার প্রথম নির্বাচন। এই সময়ে তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদ (২০০১-২০০৬): একটি স্বল্পস্থায়ী দ্বিতীয় মেয়াদ (১৯৯৬) এবং এরপর দীর্ঘ বিরতির পর, ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তার এই শাসনামলে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও, শেষের দিকে দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপট:

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নানা চড়াই-উতরাই, সাফল্য ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। ক্ষমতা হারানোর পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান বিরোধী নেত্রী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে তিনি দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন।

গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং বিএনপি'র আদর্শের প্রতীক হিসেবে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শক্তিশালী, আপোষহীন এবং আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন। তার জীবন এক গৃহবধূ থেকে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে পৌঁছানোর এক নাটকীয় পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।


Share:

Single Page