কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের লড়াকু সৈনিক আরিফ উল্লাহর সংগ্রামী জীবন গড়ে উঠেছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ, জেল-জুলুম আর নির্বাসনের মধ্য দিয়ে।
স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি তার ক্ষুরধার লেখনী, অগ্নিঝরা কবিতা ও ছন্দময় স্লোগান একসময় তার নিজের জীবনের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
জিয়া পরিবারের প্রতি আপসহীন অবস্থান ও বিরল ভালোবাসার কারণে তাকে বারবার নিষ্ঠুর রাজনৈতিক হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর রোষানল থেকে রেহাই পায়নি তার পরিবারের ১৩ বছরের শিশু ভাতিজাও।
১/১১ এর জরুরি অবস্থার সময়ে রাজপথে আন্দোলন, ২০০৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দির প্রতিবাদ এবং ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে জরুরি অবস্থা ভেঙে মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রদলের এই যুগ্ম সম্পাদক।
একই সাথে 'দেশনেত্রীর মুক্তি চাই' ও পিলখানা ট্র্যাজেডিতে 'বাকরুদ্ধ জাতি' শিরোনামে কবিতা ও কলাম লিখে তিনি নিয়মিত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কলম যুদ্ধ চালিয়ে যান।
২০১২ সালে প্রকাশিত হয় আরিফ উল্লাহর আলোচিত গ্রন্থ ‘ডিজিটাল ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশ’, যার মোড়ক উন্মোচন করেছিলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
২০১২ সালে প্রকাশিত হয় আরিফ উল্লাহর আলোচিত গ্রন্থ ‘ডিজিটাল ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশ’, যার মোড়ক উন্মোচন করেছিলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
একই বছর বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের প্রতিবাদে রাজপথে ক্রিকেট খেলে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করে নজর কাড়েন তিনি। তার এই অতি-সক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তার বাড়িতে হানা দেয় এবং তাকে না পেয়ে তার ১৩ বছরের শিশু ভাতিজা হাফেজ তাজদিককে গ্রেপ্তার করে অমানসিক নির্যাতন চালায়।
ওই শিশুকে এক মাসেরও বেশি সময় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি প্রতিরোধ করতে গেলে আরিফকে দোতলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তার শরীরের দুটি হাড় ভেঙে যায়।
পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা দেওয়া হলে নিজের গড়া একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফেলে রেখে জীবন বাঁচাতে তিনি কৌশলে সৌদি আরবে নির্বাসিত হন।
দীর্ঘ প্রবাস জীবনে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হয় তার শারীরিক অবনতি। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি নিঃস্ব হাতে দেশে ফিরে এসে তিনি আবারও দলের নির্বাচনি কাজে সম্পৃক্ত হন।
দীর্ঘ প্রবাস জীবনে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হয় তার শারীরিক অবনতি। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি নিঃস্ব হাতে দেশে ফিরে এসে তিনি আবারও দলের নির্বাচনি কাজে সম্পৃক্ত হন।
দেশে ফিরে নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. সাইফ উদ্দিনের অধীনে চিকিৎসা নেন এই লড়াকু সৈনিক। আরিফ উল্লাহ আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, তার স্বপ্ন ছিল ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরা।
আজ তারেক রহমান দেশে ফিরে জনগণের ভোটে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, যা তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, জিয়া পরিবারের জন্য জীবনের এতটা সোনালী সময় ও ত্যাগ স্বীকার করলেও বর্তমানে দলে তার কোনো পদবি নেই এবং দলের কেউ তার খোঁজও নেয়নি।
তীব্র অবহেলা আর অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যেও জিয়া পরিবারের প্রতি তার আমরণ ভালোবাসা ও আনুগত্য অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আরিফ উল্লাহ। যে কবিতা আবৃত্তি করার অপরাধে একদিন তাকে ফেরারি হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল, সেই প্রিয় কবিতাটি তিনি নিজ হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপহার দিতে চান।
তীব্র অবহেলা আর অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যেও জিয়া পরিবারের প্রতি তার আমরণ ভালোবাসা ও আনুগত্য অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আরিফ উল্লাহ। যে কবিতা আবৃত্তি করার অপরাধে একদিন তাকে ফেরারি হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল, সেই প্রিয় কবিতাটি তিনি নিজ হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপহার দিতে চান।
জীবনের ঝুঁকি নেওয়া এই পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতার এখন একমাত্র শেষ আকুতি— প্রধান উপদেষ্টার আসনে বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে যেন অন্তত একবারের জন্য হলেও সরাসরি সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান। আর এই একটি সাক্ষাৎ পেলেই তার জীবনের দীর্ঘ সংগ্রাম পূর্ণতা পাবে বলে তিনি এক বুক আশা নিয়ে প্রহর গুনছেন।