ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও তা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিরাপত্তা সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর উভয় পক্ষের মৃত্যুর জন্য যাদের তিনি ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তারাই দায়ী। তবে নিহতদের পরিচয় বা বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে সৃষ্ট এই অস্থিরতা গত অন্তত তিন বছরের মধ্যে ইরানি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করতে পেরেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, মাত্র দুই সপ্তাহের অস্থিরতার মধ্যে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অস্থিরতা দমনে ইরানজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা আগের কোনো সংকটে এতটা কঠোরভাবে দেখা যায়নি। কয়েক দিন আগেও যেসব সড়কে সরকারবিরোধী স্লোগানে উত্তাল ছিল, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে।
বিবিসি পার্সিয়ানকে তেহরানের এক বাসিন্দা বলেন,
“শুক্রবার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। সেদিন প্রচণ্ড ভিড় ছিল এবং চারদিকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তবে শনিবার রাত থেকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে।”
একজন ইরানি সাংবাদিক বলেন,
“এখন রাস্তায় নামা মানেই মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়া।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের চলমান সংকট শুধু অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক চাপও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, মাত্র সাত মাস আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা দেশটির শাসনব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দেয়।